খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতের গণমিছিল

‘দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তারা আপনাকে ছাড়বে না’

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:০৩ এ.এম | ০২ অগাস্ট ২০২৬


আগামীতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহŸান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যে লক্ষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়েই জুলাই বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আপনি এখন ক্ষমতায়। আপনি বা আপনার পরিবারের কোন সদস্য আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তারা আপনাকে ছাড়বে না। তাই সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে’। 
তিনি দেশ ও জাতিকে নিয়ে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে জামায়াত কারো সাথে আপোষ করবে না বরং দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষার জন্য সবকিছু করবে। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করতে সকলের প্রতি আহŸান জানান। 
শনিবার বিকেলে নগরীর নিউমাকেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ গেটে মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। 
নগর সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মিম মিরাজ হোসাইন, ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, নগর জামায়াতের মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, এড. শফিকুল ইসলাম লিটন, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, হরিণটানা থানা আমীর মুহা. সেলিম বাহার, লবণচরা থানা আমীর মোজাফফর হোসেন প্রমুখ। খুলনা নিউ মার্কেটের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে শিববাড়ি মোড়, পাওয়ার হাউস মোড়, ফেরীঘাট মোড় হয়ে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে  গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীদের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন কর, করতে করতে হবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করো, করতে হবে, আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, গোলামী না আজাদী, আজাদী-আজাদী, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’ সহ বিভিন্ন শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় গোটা খুলনা। 
সংসদ সদস্য এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন বলেন, ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের একটি সার্বজনীন আন্দোলন ছিল। জুলাই কোনো একক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। দেশের আপামর ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। জুলাই গণআন্দোলনে মানুষের আকাঙ্খা ছিল সমাজ বদলাবে, নতুন বাংলাদেশ হবে। নতুন রাষ্ট কাঠামো তৈরি হবে। ছয়টি মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য সংস্কার কমিশন গঠন করা হল। ৩৩টি রাজনৈতিক দল ৭২টি বৈঠকের পর ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব দিল। ৯ মাসব্যাপী ৭২টি বৈঠকে ৮৪টি বিষয়ে সংস্কারের ব্যাপারে একমত হল। সংসদ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হল। রাষ্ট্রপতির আদেশে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট হল। অথচ সরকারি দল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন না। সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলছে, এরমধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি লুকিয়ে রয়েছে। নোট অব ডিসেন্টের সংস্কারগুলো বাদ দিয়ে বিএনপি অন্য সংস্কার মানতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ