খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনা বৃক্ষমেলায় বাড়ছে দর্শনার্থী দৃষ্টি কাড়লো কাঁটা মুকুট গাছ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:০৫ এ.এম | ০২ অগাস্ট ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় বাড়ছে ক্রেতা ও দর্শনার্থী। দৃষ্টি কেড়েছে কাটা মুকুট গাছ। দৃষ্টিনন্দন এ উদ্ভিদটি ক্রেতাদের মন কেড়েছে। বন কন্যা নার্সারী নামক স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এ গাছ। বিভিন্ন অফিস আদালতে এমনকি বিভিন্ন শো-রুমে সাজিয়ে রাখা হয় গাছটি। গাছটির দাম হাকানো হয়েছে দেড় হাজার টাকা। মাসব্যাপী এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
সরেজমিন ঘুরে ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কাঁটা মুকুট গাছ হলো মাদাগাস্কার অঞ্চলের একটি প্রাচীন সপুষ্পক উদ্ভিদ। খ্রিষ্টধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী যীশু খ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার সময় এই গাছের কাঁটাযুক্ত শাখা দিয়ে তার মাথায় মুকুট পরানো হয়েছিল। ১৮২১ সালে ব্যারন মিলিয়াস এটি ফ্রান্সে নিয়ে আসেন এবং তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় কাঁটা মুকুট বা ইউফরবিয়া মিলি। এদের আদি নিবাস মাদাগাস্কার। এটি অনুমান করা হয় যে প্রজাতিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রাচীনকালে চালু করা হয়, এবং এই কথা পৌরাণিক রূপ পায় যে যিশু খ্রিস্ট এর কাঁটার মুকুট পরেছিলেন। এই গাছ পানি ও সরাসরি সূর্যের আলো পছন্দ করে। তাই নিয়মিত পানি দিতে হবে। গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য পুরনো ও বাদামী পাতা, পাতা ছাড়া ডাল কেটে ফেলতে হবে। 
তবে ফাঙ্গাস রোগ এড়ানোর জন্য মাটিতে পড়া মৃত ও ঝরে পরা পাতা সরিয়ে ফেলতে হবে। ডাল কাটার সময় একদম ডালের গোঁড়া থেকে কাটতে হবে। এর জন্য অবশ্যই প্লাস্টিকের গ্লাভস আর লম্বা কাঁচি ব্যবহার করতে হবে। সাদা কষ বন্ধ করার জন্য কেটে ফেলা জায়গায় বরফ ঠান্ডা পানি দিতে হবে। কাঁটা মুকুট গাছকে কাটিং পদ্ধতিতে নতুন গাছ জন্মানো যায়। এই গাছ ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না এবং ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বাঁচতে পারে না। ঠান্ডা এলাকায় এটি কাঁচের ঘরে রোদে রাখতে হয়। গরমকালে, যখন ঠান্ডার কোনো আশঙ্কা থাকে না, তখন এটি বাইরে কোনো স্থানে রাখা যেতে পারে।
মেলায় বন কন্যা নার্সারী স্টল মালিক মোঃ সোহাগ শেখ বলেন, কাঁটা মুকুট গাছ শোভা বর্ধন হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ