খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সামান্য হাওয়াতে ধূলি ঝড়, বৃষ্টি হলে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা

নগরীর গোয়ালখালি এলাকায় খোলা জায়গায় ইট-বালু বিক্রি : নিরব প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৭ এ.এম | ০২ অগাস্ট ২০২৬


সামান্য হাওয়াতে শুরু হয় ধূলি ঝড়, বৃষ্টি হলে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। খুলনা-যশোর মহাসড়কের গোয়ালখালি এলাকায় এ চিত্র নিত্যদিনের। আইনের তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। এ বিষয়ে একাধিকবার পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। 
সূত্র জানায়, নগরীর খালিশপুরের গোয়ালখালি মোড় এলাকায় দুই-তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে বালু, ইট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি করে আসছেন। প্রতিদিন ব্যাটারি চালিত ভ্যান ও মিনি পিকআপে এসব বালু পরিবহন করা হচ্ছে। উম্মুক্ত স্থানে স্তূপ আকারে এভাবে বালু রাখায় সামান্য বাতাস হলেই তা উড়ে সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, বৃষ্টি হলে এই বালুর কারণে সড়কে ও আশেপাশের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। 
প্রচলিত পরিবেশ আইনে এভাবে খোলা জায়গায় বালু বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সাথে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনেও খোলা জায়গায় বালু বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমানিত হলে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডই একই সাথে কার্যকর হওয়ার কথা আইনে উল্লেখ রয়েছে। 
এ বিষয়গুলো তদারিক করার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশ্যে এমন অপরাধ হলেও তারা বিষয়গুলো দেখছেন না পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগ ও জেলা কার্যালয়ে পরিদর্শকরা। অন্যদিকে গোয়ালখালি এলাকার এ সকল জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে এলাকাবাসী একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন, কেডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরতরা যাতায়াত করেন। কিন্তু কেউই এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেন না। পাশেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস। তারাও কিছু বলেন না। যারা বালু-ইট বিক্রি করছেন তারা প্রভাবশালী। তাদের প্রভাবের কাছে প্রশাসন এক প্রকার অসহায়। 
খুলনার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হক জানান, ধুলা-বালুর মাধ্যমে শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। শ্বাস কষ্ট, এ্যাজমা ও হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ধূলাবালু খুবই ক্ষতিকর। ত্বকেরও নানা সমস্যা হতে পারে। যা মানুষের মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দূষিত বাতাস সর্ববস্থায় শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।   
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার ফজলুল হক জানান, নগরীর গোয়ালখালি এলাকায় মহাসড়কের পাশে  উম্মুক্ত স্থানে বালু বিক্রির ফলে সাধারণ মানুষকে নানা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি গত ১৭ মে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া বলে আশ্বাস দেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ