খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাগেরহাটে সাজাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৪:২৩ পি.এম | ০২ অগাস্ট ২০২৬


বাগেরহাটে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় জেলা কারাগার চত্বরে বাগেরহাট জেলার সংশোধন ও পুনবাসন সমিতির অর্থায়নে এসব বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন  জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

বাগেরহাট জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আবু সাদাত, জেলার মোহাম্মদ আবু সাদাত, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ উপকারভোগীরা উপস্থিত চিলেন।

উপকার ভোগীরা হলেন, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জের লাইলী বেগম, চিতলমারির আয়েশা আক্তার ও মংলা উপজেলার জালাল শেখ।

বক্তারা বলেন, পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে তারা আত্মসম্মান বজায় রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই শাস্তির পাশাপাশি মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রম অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপকারভোগী জালাল শেখ বলেন,দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

উপকারভোগী আকলিমা বেগম বলেন, আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এটি দিয়ে সৎভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন,পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে তাদের সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজের সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবেন। অপরাধ দমনে শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ