খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা : সিএনএনের প্রতিবেদন

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫২ এ.এম | ০৩ অগাস্ট ২০২৬

 

বিশ্বজুড়ে নতুন করে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যদিও আপাতত বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল, তবু কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই।

রোববার সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। এতে বলা হয়- জুনে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ তৈরি হতে পারে, যা শুধু তেলের বাজার নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও নাড়িয়ে দেবে। তবে সেই সমঝোতা টেকেনি। ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতিও।

এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে এবং বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে পরিস্থিতি এতটা জটিল হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক তেলবাজারে এখনো বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি।

এর অন্যতম কারণ, যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রণালিতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়। এতে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট অনেকটাই কমে আসে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চীন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশটি যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার চাপ এখনো উলে­খযোগ্যভাবে বাড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, এ স্বস্তি সাময়িক।

হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বর্তমানে যে ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে, তা দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। তখন শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানিরও সংকট
বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানি নিয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা পুনরায় চালু হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অনেক শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই আসত রাশিয়া থেকে।

চীনও পরিবেশগত নীতি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনার কারণে শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহে চাপ বাড়ছে। এই ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সক্ষমতায় শোধনাগার চালালেও তীব্র গরম আবহাওয়া উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কতটা শক্তিশালী
উৎপাদনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক। দেশটি প্রতিদিন নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। কিন্তু এই সক্ষমতা পুরো সমস্যার সমাধান নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, মূলত পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী।

অন্যদিকে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎপাদনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন হয়। ফলে জ্বালানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি আগের চেয়েও বেশি জটিল
সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোল্ডম্যানের মতে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও আগের মতো দ্রুত বড় সরবরাহ বাজারে আসবে না। এর সঙ্গে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে লোহিত সাগরেও। এর আগে সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পশ্চিম দিকে নিয়ে গিয়ে লোহিত সাগর ব্যবহার করছিল। কিন্তু সেই বিকল্প পথও এখন ঝুঁকির মুখে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নৌপথ স্বাভাবিক করা যায়, তাহলে বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ