খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কুষ্টিয়ার অনিক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি |
০২:১৫ এ.এম | ০৩ অগাস্ট ২০২৬


উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী তরুণ অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ছাদ থেকে নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন অনিক। নিহত অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে নিচে পড়ে নিহত হন অনিক। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এক মাস ১২ দিন পর অনিকের মরদেহ আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের আর্তনাদে চারদিক ভারী হয়ে ওঠে। অনিককে একনজর দেখার জন্য ছুটে আসেন এলাকাবাসী।
বাদ জোহর স্থানীয় সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত অনিকের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারকী জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে তিনি পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষেরও গর্বের কারণ হয়েছিলেন। তাঁর মা নেই। বাবা ও বড় ভাই আছেন। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন অনিক। চলতি বছরের ২১ জুন খবর আসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কীভাবে পড়ল, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
আইলচারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অনিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ