খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

দ্রব্যমূল্য ও গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মাথা ব্যথা নেই : জামায়াত

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৮ এ.এম | ০৪ অগাস্ট ২০২৬


জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছে, সরকার এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। জনগণ গণভোটের রায় কার্যকর করে একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। আর জনগণের দাবি রুখে দেয়ার জন্য সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী-মিনিস্টার এবং সরকারের, কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রীও এই সমস্ত সংবিধান আর জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কাজে ব্যস্ত। তারা বিরোধী দলকে দমন করার জন্য নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত। কিন্তু দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ- এসব নিয়ে উনাদের মাথাব্যাথা নাই।
সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। আমরা জনগণের জনবান্ধব, জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে জনগণের জীবনের সঙ্গে, যেভাবে প্রতিদিন আমরা মুখোমুখি হচ্ছি, সে সম্পর্কে আমাদের প্রতিক্রিয়া, দাবি এবং বক্তব্য, সেটা তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।মহেশখালীর যে এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্র“টি দেখা দিয়েছে, তারপরে আমদানিকৃত গ্যাসের উল্লেখযোগ্য সরবরাহ কমেছে। আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে আমাদের গ্যাসের মূল্য বাড়ছে যা আছে তা, সরবরাহ কমছে। এতে জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের এই তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে। আমরা আজকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়ে এসেছি এই গ্যাস সংকট দূর করার জন্য। দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের কোনো বিনিয়োগ ছিল না, নতুন সরকারেরও কোনো বিনিয়োগ করছে না। ফলে সংকটের প্রভাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘসময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস সংকটে বহু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় তারা চালাতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, ভূতুড়ে বিল নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যর্থতা এই সরকারের। যা ব্যয় ব্যবহার হয় না, সেরকম মাত্রারিক্ত ভূতুড়ে বিল মানুষের বাড়িতে আসছে। সমাধান করবে বলে কথা বলেছিল, কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয় আরও বেড়েছে। ২৪ থেকে ২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের মূল্য, দ্রব্যমূল্য কিন্তু দারুণভাবে বাড়ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ