খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

২০ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি, চলবে ২৯ আগস্ট

তথ্য বিবরণী |
০২:০৮ এ.এম | ০৪ অগাস্ট ২০২৬


দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সময়ে নৌযান শুমারি ২০২৬ পরিচালিত হবে। 
এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে নৌযান শুমারি উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। নৌযান শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’। 
প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নৌযান শুমারিসহ সকল শুমারিই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, সরকার প্রথমবারের মত নৌযান শুমারি করতে যাচ্ছে। নৌযান শুমারি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করে অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ ও নৌ-অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ আব্দুল আলীম। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নৌ-পরিবহন মালিক গ্র“প, ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন, নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
নৌযান শুমারির উদ্দেশ্য নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহ খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা। বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা।
সেমিনারের জানানো হয়, সারাদেশে লিস্টিং অপারেশনে মোট ইঞ্জিনচালিত নৌযান দুই লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি, ঘাটভিত্তিক নৌযান এক লাখ ৭৪ হাজার ৪৭টি, খানাভিত্তিক নৌযান ৭০ হাজার ৭৬১টি; এর মধ্যে খুলনা বিভাগে মোট ১০ হাজার ৩২৭টি নৌযান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ঘাটভিত্তিক নৌযান সংখ্যা ৭ হাজার ৪১৪টি এবং খানাভিত্তিক নৌযান সংখ্যা ২ হাজার ৯১৩টি। 
উল্লেখ্য, শুমারির আওতা বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান; ডাম্ববার্জ ও অন্যান্য যেকোন নৌযান যা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ সকল নৌযানসমূহ। সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত¡াবধানে পরিচালিত এবং তাদের মালিকানাধীন যে সকল নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো নৌশুমারির আওতার বাহিরে থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ