খুলনা | বুধবার | ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মিরাজ নিখোঁজ : আটকের অভিযোগ অস্বীকার কোস্ট গার্ডের, দস্যু সংযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:৩২ এ.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২৬

 
বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ (২৯) নামে এক যুবক নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা আটকের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাহিনীটি। কোস্ট গার্ডের দাবি, মিরাজ শেখকে তারা কখনোই আটক বা হেফাজতে নেয়নি।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান, অপারেশনাল রেকর্ড ও টহল কার্যক্রম পর্যালোচনায় তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো তথ্য বা প্রমাণ মেলেনি।
বাহিনীটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ স্থানীয়ভাবে জেলে ও মোটরসাইকেল চালক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি মূলত সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর অন্যতম লজিস্টিকস সরবরাহকারী ছিলেন। দস্যু বাহিনীর সংগৃহীত মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ৬ লাখ টাকা নিজের কাছে রাখা নিয়ে মিরাজের সাথে দস্যু দলের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া তিনি আগে থেকেই দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুন্দরবনে অবস্থান করতেন।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, মিরাজের বাবা মোস্তফা শেখ একসময় সুন্দরবনের ‘জুলফিকার বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ২০১৬ সালে বিপুল অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে মিরাজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীন, যার দু’টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
পরিবারের তোলা অভিযানের অভিযোগ প্রসঙ্গে কোস্ট গার্ড জানায়, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জয়মনির ঘোল এলাকায় তাদের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি; কেবল হারবারিয়া এলাকায় নিয়মিত টহল ছিল। ঘটনার ১৩ দিন পর (২৩ এপ্রিল) মোংলা থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। পরবর্তীতে পরিবার সংবাদ সম্মেলনে যেসব বক্তব্য দিয়েছে, তাতে স্থান, পরিচয় ও পোষাক বর্ণনায় ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা গেছে।
এদিকে, গত ১১ জুন হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের পন্টুনে হামলার ঘটনায় মিরাজের পরিবার ও বনদস্যুদের সহযোগীদের অভিযুক্ত করেছে বাহিনীটি। ওই হামলায় সরকারের প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কোস্ট গার্ডের দাবি, অপারেশন রিস্টোর পিস ও অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড-এর মাধ্যমে সুন্দরবনে তাদের সফল অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে একটি রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল বাহিনীটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের এই পাল্টা বক্তব্যের পর নিখোঁজ মিরাজের পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় অধিবাসীরা ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ