খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৮ পি.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২৬

 

ভারতের উজানে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪১ মিটার নিচে। তবে তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে ধরলার পানিও বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডালিয়া এলাকায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

পানি বাড়তে থাকায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিন্ধুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার ও কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার মোগলহাট, খুলিয়াগাছ, কুলাঘাট ও রাজপুর ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় উজানের ঢল কমে এলে পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামতে পারে।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ