খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রেকর্ড তাপদাহে পুড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, মৃত্যু ১৯

খবর প্রতিবেদন |
০৩:১৪ পি.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২৬

 

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাস থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।

রবিবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটিই দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

বর্তমানে তাপপ্রবাহ পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সিউলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে। পরবর্তী তিন দিনও প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলা এবং জনগণকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে।

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সিউল কর্তৃপক্ষও জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।

একই সঙ্গে শহরের তাপমাত্রা কমাতে ২০০টি পানিবাহী ট্রাক প্রতিদিন কয়েক দফায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা ছড়ানোর ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা।

সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সিউলের গুরো জেলাতেও তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে আসা বাতাসের ফোহেন প্রভাবের কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনের আবহাওয়ার ওপর টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথও প্রভাব ফেলতে পারে। টাইফুনটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে অন্যদিকে সরে গেলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ