খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

তারা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন রাজপথে দেখা হবে: রাষ্ট্রপতি

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৪৪ পি.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২৬

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে তাদের অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচারণার জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘তারা বলে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, দেশে আসেন। ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা তো আওয়ামী লীগ হতে পারবো না, হতেও চাই না। তাদের দেখেন, কোনো অনুশোচনা নাই।

এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—এতে তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না! আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে।

দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে। ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটা যুদ্ধ করব।’

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সরকারের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছে, সেইসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। যারা আহত, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে, অঙ্গ হারিয়েছে, তাদের সুস্থ করে তোলা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। যারা জীবন দিয়ে গেছে ১৯৭১ সালে, তারাও কিছু পায় নাই। আপনারাও হয়তো যা প্রাপ্য তা পাবেন না, কিন্তু এই সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই সম্মান পাবেন। গরিব দেশের যতটুকু সাধ্য আছে, সবকিছু উজাড় করে দেবো আপনাদের কল্যাণের জন্যে।’

গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘৭১-এর জনযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। একইভাবে জুলাইয়ের এই যুদ্ধও ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে। কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি, আমরা কি নির্বাচনের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছি নাকি? নির্বাচন তো গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ। এই দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিনই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্র কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়।’

তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যাত্রাপথ সহজ নয়। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য, সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো বিভাজন বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’

বিশৃঙ্খলায় ক্ষোভ প্রকাশ রাষ্ট্রপতি
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারিতে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকার অভিযোগে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও নাই। কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করে বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর তো শান্ত হওয়া উচিত। জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।’

বিশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু এখানে যে দৃশ্য দেখলাম, সেটি দেখে অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত এবং ব্যথিত হয়েছি। সকালে জাতীয় ঐক্য সহজেই প্রতিভাত হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা একেবারেই অনভিপ্রেত। এখানে বিদেশিরা বসা ছিলেন, আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে ইংরেজিতেই ভাষণ দেবো, বিদেশিরা দেখুক ১৬ বছর আমরা কীভাবে কাটিয়েছি। জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না। বিদেশিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে।’

নেতা ও অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো সহজে অনুসারীরা মানে না। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণের জন্য মুখিয়ে থাকে। সেই কারণেই এই ধরনের একটা অনুষ্ঠানের এই পরিণতি হলো। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কেউ ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে, এগুলো কি মানায়? কবে আমরা শিখবো?’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ