খুলনা | বুধবার | ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৪:৩০ পি.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২৬

 

‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বুধবার (০৫ আগস্ট) খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে জুলাই শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা এ গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুবসমাজ জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। তবে কেউ যদি অন্যায় বা অনৈতিক কর্মান্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় পুলিশ কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহিদ শেখ মোঃ সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, মাথা নূরনাহার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, নিহত পরিবারের সদস্যগণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাদ যোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ হাদিস পার্ক ও শিবাবাড়ি মোড়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকরি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য উন্মুত্ত রাখা ও বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে সকল সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা এবং গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলাসমূহেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ