খুলনা | শুক্রবার | ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তথ্যচিত্রে ত্রুটি

গোলযোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রয়াস ছিল কি না, বিবেচনার দাবি মন্ত্রণালয়ের

খবর প্রতিবেদন |
১১:৩৭ পি.এম | ০৬ অগাস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে দেশের রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিক, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে গোলযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল করা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রয়াস ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায়’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। প্রদর্শিত সেই তথ্যচিত্রে গুরুতর ত্রুটি থাকার অভিযোগ এনে অনুষ্ঠানস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করে কতিপয় ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে গতকাল রাতেই এই ত্রুটির জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।

আজ বৃহস্পতিবার আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটির বিষয়ে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন শেষে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা আবার নতুন করে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাসকে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক উপায়ে সংরক্ষণে মন্ত্রণালয় দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্র অথবা অন্য যেকোনো বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ জানানোর পূর্ণ অধিকার দেশের যেকোনো নাগরিকের রয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদ পরিশীলিত ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া অত্যন্ত বাঞ্ছনীয় ছিল। তা না করে দেশের রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও অতিথিদের উপস্থিতিতে গোলযোগ তৈরি করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, এই প্রতিবাদ অন্য কোনো বিকল্প ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা না করে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শহীদ পরিবার ও আঘাতপ্রাপ্ত জুলাইযোদ্ধারা মানসিকভাবে প্রচণ্ড আহত হয়েছেন—যা তাঁদের বক্তব্য ও ক্ষোভের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

তা ছাড়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় আবারও দেশকে ফ্যাসিবাদের কবলে ঠেলে দেওয়ার শামিল। তাই পুরো জাতিকে এ ধরনের হঠকারী, রাষ্ট্রবিরোধী এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ