খুলনা | শুক্রবার | ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নগরীতে আব্দুল হককে গুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার সন্ত্রাসী রুবেল কারাগারে

নিজস্ব প্রতিরবদক |
০২:২৭ এ.এম | ০৭ অগাস্ট ২০২৬


নগরীর দোলখোলা মোতলেবের মোড়ে আব্দুল হক হাওলাদার নামে এক যুবককে গুলি করার ঘটনায় শিবলী হোসেন রুবেল (৪৬) নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশ। বুধবার রাতে নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট ভোর পৌনে ৪টার দিকে নগরীর দোলখোলা মোতলেবের মোড়ে আব্দুল হক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ওই ঘটনার সূত্র ধরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ত্রাসী শিবলী হোসেন রুবেলকে নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার শয়ন কক্ষ থেকে পুলিশ শপিং ব্যাগের মধ্যে প্যাচানো একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। গ্রেফতার রুবেলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে গ্রেফতার রুবেল-এর বিরুদ্ধে খুলনা সদন থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিধান বৃহস্পতিবার রুবেলকে আদালতে হাজির করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ আসাদুর জামান তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।  
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কেএমপি ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডেপুটি কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির খবরে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগ ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, খুলনায় কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। গ্রেফতার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও অপর সন্ত্রাসী আশিক গ্র“পের সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে যারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। সকল সন্ত্রাসীদের মূল ধ্বংস করে শান্তির নগর হিসেবে খুলনাকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেফতার শিবলী হোসেন রুবেল সন্ত্রাসী গ্র“প পলাশ ও আশিক গ্র“পের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক অপরাধমূলক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেএমপি জানিয়েছে, মহানগরীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ