খুলনা | সোমবার | ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

২৭ দিনে ৯২ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে খুলনায় মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৩৫ এ.এম | ০৮ অগাস্ট ২০২৬


শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। অন্য দিন স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের তুলনামূলক ভীড় থাকলেও ছুটির দিনে অধিকাংশ স্টলে থাকে চোখে পড়ার মতো ভীড়। মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কমতি নেই। পুরোদমে বেচাকেনা হচ্ছে দেশী-বিদেশী ফলজ, বনজ, ভেষজ উদ্ভিদ, ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ। মেলার সময়সীমা যত কমছে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়ছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কিনছেন তাদের পছন্দের চারা গাছ। ব্যস্ত সময় পার করছেন স্টল মালিকেরাও। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সরব  মেলা প্রাঙ্গণ। গত ২৭ দিনে গাছের চারা বিক্রি হয়েছে ৬৪ হাজার ৫৪৬টি। যার মূল্য ৯২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০ টাকা।
শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, প্রতিদিনের তুলনায় গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্টলগুলোতে ছিলো অনেক ভীড়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার সময় নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। সকালের দিকে বেচাকেনা কম হলেও বিকেল থেকে শুরু হয় পুরোদমে বেচাকেনা। মাসব্যাপী এ বৃক্ষমেলা উপভোগ করতে সকল বয়সী নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলার স্টলগুলোতে ঘুরতে থাকে। নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক অনেক বেশি। স্টল মালিকরা বলছেন মেলায় নারীদের উপস্থিতি বেশি। গেল বছরের তুলনায় এ বছর দুইটি স্টল বেশি হয়েছে। নার্সারী মালিকেরা স্টলগুলো বরাদ্দ নিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। মেলাকে শোভামন্ডিত ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন স্টল মালিকেরা। নার্সারী মালিকরা তাদের নার্সারী থেকে ফলজ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি, শোভা বর্ধনকারী চারা এনে সাজিয়ে রেখেছেন তাদের স্টলগুলো। মেলায় সরকারি ১০টি ও বেসরকারি ৫২টি মিলে মোট ৬২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি স্টল বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দিয়ে অপরূপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মেলায় কাক্সিক্ষত বেচাকেনা হচ্ছে এমনটা বলছেন অধিকাংশ স্টল মালিক। স্টলগুলোতে ফলজ, বনজ, ফুল, ভেষজসহ কমতি নেই কোনো চারা গাছের। 
স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে বারোমাসি কাঁঠাল, বারোমাসি লেবু, লটকন, পার্সিমন গাছ, স্টোবেরি পেয়ারা, শে^ত চন্দন, কাটা মুকুল, লাকি বাম্বু গাছ, করছল ফল গাছ, কাট গোলাপ, বিভিন্ন প্রজাতির চেরি, ম্যানেলা চেরি, লুুবি রংগার, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাস, থাই কদবেল, বাহারী রঙের ফুলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা।  
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন মেলা চলাকালিন সময়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। মেলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রদানে সদা প্রস্তুত থাকেন। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত আছেন পুলিশ সদস্যরা। 
ডালিয়া নার্সারী স্টলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। বেচাকেনাও বাড়ছে। করিম নার্সারী স্টলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, তাদের দোকানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। মৌসুমী নার্সারীর একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, মেলার মেয়াদ যত শেষ হয়ে আসছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে বেচাকেনা। গোলাপ কানন নার্সারীর দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলেন, শেষ মুহূর্তে মেলা জমে উঠেছে। মেলায় দিনদিন বেচাকেনা বাড়ছে। নয়নতারা নার্সারী স্টল মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, বেচাকেনার অবস্থা ভালো। রূপালী নার্সারির আল-আমিন খান বলেন, তার স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধির গাছের চারা রয়েছে। নিজাম নার্সারি স্টল মালিক মোঃ নিজাম শেখ, ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। গাছের চারাও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বেচাকেনা বাড়ছে। স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৭ দিনে মেলায় ৯২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০ টাকার বেচাকেনা হয়েছে।   
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ