খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

২৮ দিনে ৯৫ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

খুলনায় বৃক্ষমেলাকে বেশি সমৃদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৩৯ এ.এম | ০৯ অগাস্ট ২০২৬


খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসনের তদারকিতে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। এ মেলাকে বেশি সমৃদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করছেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ স্টল মালিক। গত ২৮ দিনে ৯৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৫০ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে। 
স্টল মালিকদের ভাষ্য, মেলা প্রাঙ্গণ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা। মেলার ৬২টি স্টল সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে স্থাপন করা রয়েছে সিসি ক্যামেরা। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা রয়েছে প্রত্যেকটি স্টল। 
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। প্রতিদিন মেলা চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। মেলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রদানে সদাপ্রস্তুত থাকেন। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত আছেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি মেলার স্টলে বিক্রেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা। 
স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে বারোমাসি কাঁঠাল, বারোমাসি  লেবু, লটকন, পার্সিমন গাছ, স্টোবেরি পেয়ারা, শে^ত চন্দন, কাটা মুকুল, লাকি বাম্বু গাছ, করছল ফল গাছ, কাট গোলাপ, বিভিন্ন প্রজাতির চেরি, ম্যানেলা চেরি, লুুবি রংগার, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাস, থাই কদবেল, বাহারী রঙের ফুলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা।   
ডালিয়া নার্সারী স্টলে দায়িত্বশীলরা বলেন, মেলার  নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল যারা থাকেন তারা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা মেলাকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করেছে, এমনও কথা বলেছেন স্টলের কর্মচারীরা।  
করিম নার্সারী স্টলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, তাদের দোকানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ রয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় স্টল মালিকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 
নয়নতারা নার্সারী স্টল মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, মেলার স্টলগুলো কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। তিনি মেলা কর্তৃপক্ষের প্রতি খুব সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 
রূপালী নার্সারির আল-আমিন খান বলেন, মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জোরদার থাকায় স্টল মালিকরা কর্তৃপক্ষের প্রতি ইতিবাচক মন্তব করেছেন। তিনি বলেন, স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধির গাছের চারা রয়েছে। নিজাম নার্সারি স্টল মালিক মোঃ নিজাম শেখ বলেন, স্টলগুলো যথেষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। ফলে স্টল মালিকদের মধ্যে দুঃশ্চিন্তা নেই বললে চলে।   
মৌসুমী নার্সারীর একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, মেলার মেয়াদ যত শেষ হয়ে আসছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে বেচাকেনা। গোলাপ কানন নার্সারীর দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলেন, শেষ মুহূর্তে মেলা জমে উঠেছে। মেলায় দিনদিন বেচাকেনা বাড়ছে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বেচাকেনা বাড়ছে। স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৮ দিনে ৯৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৫০ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ