খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে পাইলস অপারেশনকালে ইনজেকশনের পর রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৫৬ এ.এম | ০৯ অগাস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতিকালে ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার পরিচালিত জোবেদা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে  মরদেহ ফেলে গা ঢাকা দেন ওই গ্রাম্য চিকিৎসক।
পাইলস অপারেশনের প্রস্তুতিকালে মৃত্যুবরণকারী রোগীর নাম আলমগীর হোসেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরের ভবানীপুর এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে নুরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত জোবেদা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি পাইলসের অপারেশন করে আসছেন। 
আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ও জামাতার বরাত দিয়ে তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সকালে আলমগীর হোসেনকে নিয়ে আমার ভাবি ও ভাইয়ের জামাই দাসকাটি এলাকার জোবেদা ক্লিনিকে যান। সেখানে গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় আলমগীরকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই ভাইয়ের (আলমগীরের) শরীরে খিঁচুনি শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। 
অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত ০১৯৭১-৮৫৯৬৭৮ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।  
এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনাটি তিনি অন্যদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছেন। তবে রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর পর ওই গ্রাম্য চিকিৎসক পালিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ