খুলনা | সোমবার | ১০ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মানবপাচারে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে

|
১২:৫১ এ.এম | ১০ অগাস্ট ২০২৬


বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে কিংবা একটু উন্নত জীবনের স্বাদ পেতে অনেকেই যেকোনো মূল্যে বিদেশে পাড়ি জমাতে উদগ্রীব থাকেন। আর সেই সুযোগটাই নেয় মানব পাচারকারীরা। কিন্তু সেই মানবপাচার এখন আর নিরীহ পর্যায়ে নেই। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ভয়ঙ্কর সব আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্র। বাংলাদেশেও তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। লোভনীয় বেতন, উন্নত থাকার ব্যবস্থাসহ নানা রকম মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের অর্থ। এরপর বিদেশে নিয়ে আটকে রেখে বা জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। অথবা অপরাধীচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এমনকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তার পরও কমছে না অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রা কিংবা মানবপাচার।
প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়, গ্রিসের উপকূলীয় অঞ্চলে ২০২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৭২ জনই বাংলাদেশি। অপর একটি খবরে বলা হয়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৩৪০ অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে গত শুক্রবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাঁদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যাবাসিত বেশির ভাগ বাংলাদেশিই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন বলে জানা যায়। তাঁদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে মানবপাচারের একটি প্রধান রুট হচ্ছে লিবিয়া-তিউনিশিয়া চ্যানেল। লিবিয়ায় লোক পাঠানো বন্ধ থাকায় পাচারকারীরা বাংলাদেশিদের প্রথমে দুবাই বা কাছাকাছি কোনো শহরে নেয়। এরপর নানা স্থান ঘুরিয়ে নেওয়া হয় লিবিয়ায়। অনেক দিন ধরেই এই রুটটি চালু রয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে পরবর্তী ১৮ মাসে শুধু দুবাইয়ের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৪ জন নারী ও পুরুষ দেশ ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফেরত এসেছেন মাত্র ২১ হাজার ৭৫৪ জন। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও বাকি এক লাখ ৭৮ হাজার ফিরে আসেননি।
এ ধরনের মানবপাচার বিদেশে আমাদের শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত করছে সামগ্রিকভাবে আমাদের অভিবাসনপ্রক্রিয়াকেই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা, চাকরি নানা কারণেই বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের ইউরোপ-আমেরিকায় যেতে হয়। বাংলাদেশ থেকে বৈধ অভিবাসনেও ক্রমে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। তাই অবৈধ অভিবাসন বা মানবপাচার বন্ধ করা জরুরি হয়ে উঠেছে। মানবপাচারে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি বিচারকাজ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ