খুলনা | সোমবার | ১০ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এবার ধূমপায়ীদের শরীরে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫০ এ.এম | ১০ অগাস্ট ২০২৬


যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং দ‚ষিত বাতাসে শ্বাস নেন, তাদের রক্তে অপেক্ষাকৃত উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সুস্থ মানুষের তুলনায় হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরেও এ ধরনের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।
স¤প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ইতালির রোমের সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতাল সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ড. পাসকুয়ালে পাওলিসো জানান, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হলেও হৃদপিন্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা ‘করোনারি সার্কুলেশন’-এ এসবের উপস্থিতি এবং ধূমপান বা বায়ুদূষণ এর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এণদিন স্পষ্ট ধারণা ছিল না।
গবেষণার অংশ হিসেবে ড. পাওলিসোর দল হৃদপিন্ডের ধমনী থেকে মোট ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। আক্রান্তদের মধ্যে কিছু রোগী সা¤প্রতিক সময়ে হার্ট এ্যাটাক করেছিলেন, কিছু রোগী দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং বাকিরা ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, হার্ট এ্যাটাক করা রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের দেখা মিলেছে। এর বিপরীতে দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত কিন্তু হার্ট এ্যাটাক না হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ ব্যক্তিদের রক্তে তা মাত্র ৩২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়, নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাসের কারণে রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। যেমন ধূমপায়ীদের রক্তে অতিমাত্রায় প্লাস্টিক কণা থাকার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি। পাশাপাশি যারা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়া ও চরম বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ধ‚মপায়ী এবং দূষিত আবহাওয়ায় বসবাসকারী ১০০ শতাংশ রোগীর রক্তেই উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক রয়েছে। অথচ ধূমপান না করা কিংবা দূষণমুক্ত পরিবেশে থাকা ব্যক্তিদের রক্তে এই হার পাওয়া গেছে মাত্র ১২.৫ শতাংশ।
গবেষণাদলের অন্যতম সিনিয়র গবেষক ড. ইমানুয়েলে বারবাতো সংবাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘এই ফলাফল সরাসরি প্রমাণ করে না যে কেবল মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণেই হার্ট অ্যাটাক হয়। তবে এটি পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদরোগের চরম ঝুঁকির মধ্যে এক নিবিড় ও প্রত্যক্ষ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।’ ড. বারবাতো ব্যাখ্যা করেন, ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্লাস্টিক কণা প্রবেশের গতিপথটি ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে আরও মসৃণ বা সহজ হয়ে ওঠে।
জার্মানির মেইঞ্জের জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড. আন্দ্রেয়াস ডাইবার জার্নালটির এক সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে লিখেছেন, ন্যানো ও মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিনিয়ত বড় হুমকি হয়ে উঠছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, প্লাস্টিক দ‚ষণ আধুনিক যুগে আকস্মিক হৃদরোগের অন্যতম অদৃশ্য ঝুঁকি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
সূত্র: ইউএস নিউজ

প্রিন্ট

আরও সংবাদ