খুলনা | সোমবার | ১০ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০২:৪০ এ.এম | ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

সৌদি আরবে রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকি ৫ জন নাটরের নলডাঙ্গা উপজেলার। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ১টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টার দিকে) কারখানায় আগুন লাগে।

জানা গেছে, খোরদাম শহরের ওই কারখানায় আগুন লাহার পর মুহূর্তেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়া সোফা কারখানাটির মালিক সাইদুল ইসলাম। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের খরসাটা গ্রামে। তিনি বর্তমানে ছুটিতে দেশে আছেন।

বিষয়টি নিয়ে সাইদুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, তার কারখানায় শ্রমিকরা বিশ্রামরত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করছেন বৈদ্যুতিক শট সার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে। তার কারখানায় ১৯ জন কর্মচারীর মধ্যে দুজন ছুটিতে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাকি ১৭ জনই নিহত হয়েছেন এবং বেশির ভাগ শ্রমিক আত্রাই উপজেলার বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

১৭ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জন নওগাঁ আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকসুন্দা, দিঘিরপাড়ের। বাকি পাঁচজন পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানার খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর ১২ জনের মধ্যে কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক, তাদের পিতা: গুফফার প্রামাণিক; একই গ্রামের রুবেল হোসেন, পিতা: জাননার; কলি প্রামাণিক, পিতা: ফজলু; সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ, পিতা: ময়েন শেখ; বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন, পিতা: মৃত বাদল; হাসিবুল হসান শুভ, পিতা: চঞ্চল; একই ইউনিয়নের বড়সাঁটা গ্রামের সুমন, পিতা: মৃত রুহুল; পাচুপুর ইউনিয়নের পারকসুন্দা গ্রামের জলিল, পিতা: জালাল কানা; বিশা ইউনিয়নের সাদনগর গ্রামের সাগর, পিতা আজাহার; মাধবপুর গ্রামের মজিদুল, পিতা মজনু, পাচুপুর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা গ্রামের হৃদয়, পিতা: আসলাম।

কারখানাটিতে কর্মরত বর্তমানে ছুটিতে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক আত্রাই উপজেলার মোহনঘোষ গ্রামের জহুরুল ইসলামও তাদের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাতে বলেন, আগুন লাগার তথ্য পেয়েছি। তবে কোন উপজেলার কতজন, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে। আগামীকাল সকালে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

শোক : এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, রোববার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় জানায়, সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

তিনি জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ