খুলনা | সোমবার | ১০ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইংরেজি-গণিতের ধাক্কায় যশোর বোর্ডে কমেছে পাসের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪৯ পি.এম | ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবারও অবনতি হয়েছে। ২০২৬ সালে এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও।

এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানানো হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী ফলাফল প্রকাশ করেন।

ফলাফলের অবনতির কারণ হিসেবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী বলেন, মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে এবার পাসের হার কমেছে। খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিন বছরে পাসের হারে বড় পতন
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এবার আরও কমে হয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং এবার ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন ছেলে এবং ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন মেয়ে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন ছেলে এবং ৫৫ হাজার ৭৩২ জন মেয়ে ছিল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ