খুলনা | মঙ্গলবার | ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘুন পোকার গুঁড়োতেই মিলল খুনের সূত্র

ভান্ডারিয়ার ইসমাইল শরীফ হত্যায় স্ত্রী এবং তিন ছেলে গ্রেফতার

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি |
১২:৪৮ এ.এম | ১১ অগাস্ট ২০২৬


পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় নদীর ভেড়িবাঁধের পাশে ইসমাইল শরীফ (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মাত্র ১৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহের মাথা ও কানের পাশে লেগে থাকা কাঠখেকো ঘুন পোকার গুঁড়োই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। স্ত্রী ও তিন ছেলে মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা গ্রেফতার হয়েছে।
রোববার সকালে তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা এলাকায় ভেড়িবাঁধের পাশে ইসমাইল শরীফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের পর তদন্ত শুরু করে। প্রথমে ঘটনাটি ক্লুলেস হত্যাকান্ড মনে হলেও মরদেহের সুরতহাল ও ছবি বিশ্লেষণের সময় তদন্তকারীদের নজরে আসে ঘুন পোকার গুঁড়ো। এতে সন্দেহ হয়, হত্যাকান্ডটি ভেড়িবাঁধে নয়, অন্য কোথাও সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায় প্রাথমিক তদন্তে ইসমাইল শরীফের বসতঘরের বারান্দায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন, রক্তের দাগ এবং কাঠের গুঁড়ো পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারান্দার খাটের নিচ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ ও রাসেল শরীফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই জয়নাল শরীফ বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
রোববার রাতে ভান্ডারিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান। তিনি জানান, অতিক্ষুদ্র আলামত ও তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তমাখা মাটি, ঘুন পোকার গুঁড়োসহ বিভিন্ন আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ