খুলনা | মঙ্গলবার | ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একজনও পাস করেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৫০ এ.এম | ১১ অগাস্ট ২০২৬


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খাল পড়ের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে অবস্থিত সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক, নৈশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়া, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ সংকটে পড়েছে।
আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা বলেন, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, বিদ্যালয় থেকে চারজন শীক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের উপস্থিতি নিয়মিত নয়। বর্তমানে একজন শিক্ষিকা ও একজন হুজুর শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না। 
তিনি আরো বলেন, বিগত ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে অনেক শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি।
সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তবে সাতক্ষীরা নৈশা মাধ্যমিক স্কুল থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তারা সবাই ফেল করেছেন।
শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে এই  বিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ