খুলনা | মঙ্গলবার | ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনায় মধ্যরাতে দৈনিক প্রবাহ অফিসে সন্ত্রাসী হামলা, স্টাফকে মারধর, আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০১ এ.এম | ১১ অগাস্ট ২০২৬


খুলনা নগরীতে মধ্যরাতে দৈনিক প্রবাহ অফিসে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা ফয়সাল আহমেদ (৪৯) নামে পত্রিকার একজন স্টাফকে মারধর করে এবং সাংবাদিকদের খুঁজতে থাকে। না  পেয়ে অফিসের কাচের দরজাও ভাঙচুরের চেষ্টা কর। রোববার  দিবাগত রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে নগরীর ৩ কেডিএ এভিনিউস্থ প্রবাহ ভবনের পঞ্চম তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ফয়সাল আহমেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 
এদিকে, খবর পেয়ে সোমবার সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একাধিক টিম এবং গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া খুলনা প্রেসক্লাব ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবাহ কার্যালয় পরিদর্শন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  
প্রবাহ পত্রিকা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে পত্রিকার কাজ শেষ করে বার্তা বিভাগের রিপোর্টাররা অফিস ত্যাগ করেন। এরপর রাতের সেকশনে পেস্টিংয়ের কাজ চলছিল। রাত ২টার পর হঠাৎ করে কয়েকজন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জোরপূর্বক প্রবাহ ভবনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হলে নিচ তলায় মেইন গেটের দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মুসলিমকে ধাক্কা দিয়ে গালিগালাজ করতে করতে তারা ভবনের ৫তলায় অবস্থিত পত্রিকা অফিসে ঢুকে অফিসের কাচের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিকদের খুঁজতে থাকে। কিন্তু সাংবাদিকরা না থাকায় তারা পত্রিকা অফিসের পেস্টার ফয়সাল আহমেদকে একা পেয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এমনকি তারা যাওয়ার সময় এ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জীবননাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এতে অফিস জুড়ে চরম ভীতিকর ও আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। 
পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মেহেদী মাসুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অফিসে রক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রবিউল ও সিজানের নাম জানা গেছে। অন্যজন অজ্ঞাত। তবে, ঘটনার সময় প্রবাহ ভবনের গেটের বাইরে আরও ৫-৬ জন সন্ত্রাসী অপেক্ষমান ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকে অফিসের স্টাফ ও সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হামলার শিকার পত্রিকার পেস্টার ফয়সাল আহমেদ বলেন, তিনি অফিসে কাজ করছিলেন। এ সময় বাথরুমের জানালার গ্লাসে বাইরে থেকে একাধিক ইট মারা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই অফিসের পঞ্চম তলার গেটে চিৎকারের শব্দ শুনে তিনি গেটের কাছে আসা মাত্রই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মারধর করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদেরও খুঁজতে থাকে এবং গালিগালাজ করে। পরে তাকে জীবন নামের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। 
ঘটনাস্থল পরির্দশন করে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা গভীর রাতে কি উদ্দেশ্যে পত্রিকা অফিসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে হামলা করেছে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা প্রেসক্লাব ও সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান রাশিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবাহ ভবন পরিদর্শন করেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ