খুলনা | বুধবার | ১২ অগাস্ট ২০২৬ | ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাগেরহাটে পলি ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৬:৩৮ পি.এম | ১২ অগাস্ট ২০২৬


বাগেরহাটে পলি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নাসিমা আক্তার নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার (১২ আগস্ট) বাগেরহাটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আসম মাহাবুবুল আলম ।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মোঃ ফারুকুজ্জামান, এনেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোঃ এসকেন্দার। এই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার এলাকায় অবস্থিত পলি ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথর অপারেশনের পর অপারেশন থিয়েটারেই মারা যায় নাসিমা আক্তার (২০) নামের এক রোগী। নিহত নাসিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বারোদাঁড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সমান হাওলাদারের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ ছিল, রাত চারটার দিকে অপরাশেন থিয়েটারেই মৃত্যু হয় নাসিমা আক্তারের। বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে ও ভেতরে বেশ হট্টগোল করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে হট্টগোল ও অভিযোগ না করার জন্য বিভিন্ন লোক মারফত টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত নিহতের পরিবারের সদস্যরা কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ না দিয়েই দুপুরের দিকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

এদিকে গেল ৮ আগস্ট শহরের দাসপাড়া মোড় এলাকায় দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল সার্জন। কমিটির সদস্যরা হলেন, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শিহান মাহমুদ ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ রিয়াদুজ জামান।

মৃত নবজাতক কচুয়া উপজেলায়। মৃত্যুর পরে নিহতের নানী আমিনুর বেগম অভিযোগ করেছিলেন, তার মেয়ে নাদিরা বেগমকে ৭ আগস্ট দিবাগত রাতে দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল ক্লিনিকে ভর্তি করে। গভীর রাতে স্বাভাবিক (নরমাল) ভাবে তার মেয়ের বাচ্চা হয়। কিন্তু সকালে বাচ্চা কান্নাকাটি করলে, চিকিৎসক ও নার্সদের জানান। কিন্তু তারা তেমন কোন গুরুত্ব দেয়নি। পরে অনেক বেশি অসুস্থ্য হলে ক্লিনিকের মালিক ও সার্জন ডা. সিরাজুল ইসলাম ওই শিশুকে স্থানীয় অনিল কুন্ডু নামের এক চিকিৎসকের কাছে নিতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পরে অনিল কুন্ডু বলেন, এখানে কেন নিয়ে আসছেন, বাচ্চাকে অক্সিজেন দিতে হবে। হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই শিশুকে পুনরায় আবারও ক্লিনিকে নিয়ে আসলে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ওই শিশুকে অক্সিজেন দেয়। কিন্তু ততক্ষনে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তখন চিকিৎসকদের অবহেলায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন আমিনুর বেগম।

তিনি আরও বলেন, নবজাতককে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ভুমিকা নিতে ব্যর্থ হলেও, ওই শিশুর পরিবারকে ৬ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ৬ হাজার টাকা না দিলে মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন না এমন হুমকিও দেওয়া হয়। এক পর্যায়ের ৩ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফা করেন মৃত নবজাতকের নানী আমিনুর বেগম।বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সিভিল সার্জন স্বপ্রনোদিত হয়ে তদন্ত কমিটি করেছেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আসম মাহাবুবুল আলম বলেন, পলিক্লিনিকে যিনি ওই অস্ত্রোপচারের অ্যানেস্থেশিয়া টিমে থাকার কথা, সেই অ্যানেস্থেটিস্ট জাহিদ হোসেন দাবি করেছেন, তিনি ওইদিন সেখানে ছিলেন না। এছাড়া সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিউটি ডাক্তার ও ছিলেন না । নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি রয়েছে।আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তারা রিপোর্ট দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবহেলা বা অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ