খুলনা | শুক্রবার | ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৮ জন পরীক্ষার্থীর ১৭ জন শিক্ষক

নড়াইলের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ

নড়াইল প্রতিনিধি |
১২:৫৮ এ.এম | ১৩ অগাস্ট ২০২৬


নড়াইলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দু’টি মাদ্রাসায় পাস করেনি কোন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে অন্যতম নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা। এ বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে  দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ জন শিক্ষার্থী, তবে কেউ পাস করতে পারেননি। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক আছেন ১৭ জন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও ১৮ জন শিক্ষার্থীর সকলেই ইংরেজী বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। 
মাদ্রাসাটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হ এবং ১৯৯০ সালে প্রথম দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।  প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৩ সালে এমপিও ভুক্ত হয়।  বর্তমানে মাদ্রাসায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।২০২৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসায় শতভাগ পাস করে আর ২০২৫ সালে ২০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৭ জন পাস করে। 
ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তুশমি খানম নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন সব বিষয়ে পরীক্ষা ভালো দিয়েছি ফলাফল এমন হবে ভাবতে পারিনি। অভিভাবক রুমা বেগম বলেন, তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনায় ভালো এবং শ্রেণিকক্ষে প্রথম দ্বিতীয় হতো। সে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে যা হতাশাজনক। 
পেড়লী দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক বৃন্দা দাস বলেন, আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদেরও গাফিলতি ছিল। মাদ্রাসার সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা সকলে ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। এরপর প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।
নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, জেলার দু’টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে কোথায় ঘাটতি ছিল সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
অপরটি একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটিতে এ বছর ৭ জন পরীক্ষা দিলেও কেউ পাস করতে পারিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও না হওয়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। 
উল্লেখ্য, জেলায় এ বছর ১৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪৪টি মাদ্রাসা পরীক্ষার অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে  মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭০ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ