খুলনা | শুক্রবার | ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব প্রশমনে তিন জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:১০ এ.এম | ১৩ অগাস্ট ২০২৬


নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে জরুরি সভা গতকাল বুধবার বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। 
সভায় বৃহস্পতিবার থেকে যে সকল ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে সেই সকল ওয়ার্ডকে ৩টি জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১, ২, ৩, ৫, ১০, ১২, ১৫ ও ১৬নং ওয়ার্ড জোন ‘এ’; ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ড জোন ‘বি’ এবং ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডকে জোন ‘সি’ হিসেবে বিভক্ত কর হয়েছে। ক্রাশ প্রোগ্রাম তদারকির জন্য জোন ‘এ’ তে সচিব, জোন ‘বি’ তে প্রধান প্রকৌশলী এবং জোন ‘সি’-তে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা’কে প্রধান করে ৩টি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ক্রাশ প্রোগ্রামের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। 
কেসিসি প্রশাসক বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সম্মুখে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় ২৮নং ওয়ার্ড অফিসের সম্মুখে উপস্থিত থেকে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করবেন। 
এছাড়া সভায় জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাইকিং-এর মাধ্যমে প্রচার, প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে মশক নিয়ন্ত্রণ ঔষধ ¯েপ্র ও ফগিং করা, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করা, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত¡াবধানে নিজ নিজ ওয়ার্ড এলাকার মশার প্রজনন স্থান চিহ্নিত ও ধ্বংসে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা, সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
কোন বাড়ি/স্থাপনার সীমানার মধ্যে মশার প্রজনন স্থান/লার্ভা পাওয়া গেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসি’র ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনাসহ বিদ্যমান ঝোপঝাঁড়, জলাভ‚মি নিজ উদ্যোগে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং বাড়ি/স্থাপনার মধ্যে টায়ার, কৌটা, ডিমের খোসা, ডাবের খোল, ফুলের টব, বেসিনের নিচে, ফ্রিজের পাশে, এসির পাশে, সানসেটে পানি জমে আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সভায় নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। কারো শরীরে জ¦র অনুভ‚ত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অথবা প্রয়োজনে কেসিসি’র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়। 
এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিজ উদ্যোগে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সরকারি গাইড লাইন অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। 
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মোঃ রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মউল ইসলাম. বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, শেখ মোঃ মাসুদ করিম সহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শাখা প্রধান ও কঞ্জারভেন্সী বিভাগের ওয়ার্ড সুপারভাইজারগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ