খুলনা | শুক্রবার | ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধান শিক্ষক হয়েও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার!

পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১২:২১ এ.এম | ১৪ অগাস্ট ২০২৬


খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললেও এখনো তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও তিনি বহালতবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দীপক চন্দ্র সরকারের নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার বরশুল এলাকার ভোটার তালিকায় রয়েছে। অথচ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর গত ১ ফেব্র“য়ারির প্রতিবেদনে বিদেশি নাগরিকের এই এমপিওভুক্ত পদে টিকে থাকাকে প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষয়টি মাউশির মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠান। মাউশি কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষককে শোকজ করে লিখিত জবাব পেলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে নাগরিকত্ব বিতর্ক ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনটি নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো ও শালিকা চাকরি পেয়েছেন। এই নিয়োগে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা সে সময় ঝাড়– মিছিল ও মানববন্ধন করে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের ৫ লাখ টাকার মধ্যে বড় অংশের কোনো সঠিক বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাঁকে ফাঁসানোর জন্য কেউ চক্রান্ত করে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাউশির উপ-পরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মোঃ জাকির হোসেন জানান  প্রধান শিক্ষকের জবাবসহ সব তদন্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে এবং পর্যালোচনার পর তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ