খুলনা | শুক্রবার | ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী সংকট মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান কোথায়

|
১২:৩৯ এ.এম | ১৪ অগাস্ট ২০২৬


এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের চেয়ে পাশের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার। প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। এই হতাশাজনক চিত্র আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই ফল বিপর্যয়ের প্রভাব নানামুখী। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অন্তত ১৭ লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। বিশেষ করে মফস্বলের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংকট মারাত্মক প্রকট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশে সাধারণ কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯ হাজার ৩১৪টি। এতে আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ। ফলাফল অনুযায়ী এবার সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। অর্থাৎ ১৭ লাখ আসনই খালি থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, লাখ লাখ আসন খালি থাকলেও মানসম্পন্ন কলেজের বড় সংকট রয়েছে। ঠিক এই কারণে জিপিএ ৫ পেয়েও বহু শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। রাজধানীর নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীকে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হবে, যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করে।
বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এক বছরের চেয়ে পরের বছর পাশের হার বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল­া দিয়ে বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, যা আমাদের শিক্ষার জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনেনি, তা এখন উপলব্ধি করা যাচ্ছে। বরং যত্রতত্র মানহীন প্রতিষ্ঠান গজিয়েছে, যার মূল্য এখন চোকাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাইকে। একজনও পাশ করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবারও বেড়েছে।
এ বছর ফল বিপর্যয়ের নানা কারণ সামনে এসেছে। করোনা মহামারির প্রভাব এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। বারবার কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। ফলে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতিতে পড়েছে। এ ছাড়া গ্রাম ও শহরের বৈষম্য তো আছেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই। শিক্ষাকে কোচিং, গাইড বই ও প্রাইভেট নির্ভর করে তোলায় শহরের শিক্ষার্থীরা যতটা এগিয়ে থাকছে, নানা কারণেই গ্রামের শিক্ষার্থীরা তা পেরে উঠছে না। বলা বাহুল্য, এসব আমাদের শিক্ষাব্যবস্থারই গলদ। এ ছাড়া এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে।
বলা হয়ে থাকে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, মানহীন শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ডের ভূমিকা নিতে পারে না। শিক্ষা নিছক পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, এর সঙ্গে মানের সম্পর্ক অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দিক বিবেচনায় মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ