খুলনা | শুক্রবার | ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

মোংলায় রাতের আঁধারে স্কুলের খেলার মাঠ কেটে ড্রেন তৈরি, পানিবন্দি শিক্ষার্থীরা

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:২৮ এ.এম | ১৪ অগাস্ট ২০২৬


মোংলা উপজেলার বুরবুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠটি রাতের আঁধারে কেটে ড্রেন তৈরি করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়াই মাঠের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কেটে বড় ড্রেন তৈরি ও মাটির স স্তূপ তৈরি করায় সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাঠটি। ফলে মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা চরম পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। এই ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ দায়ের করলে উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ৫ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। 
অভিযোগ সূত্রে, উপজেলা প্রশাসন ও তদন্ত কমিরি প্রতিনিধিরা জানান, গত ৯ আগস্ট রাতে স্থানীয় প্রভাষ মজুমদার ও লাভলী মজুমদারের নেতৃত্বে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বুরবুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যৌথ খেলার মাঠ কেটে ড্রেন তৈরি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এছাড়া মাঠের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে নালা তৈরি করে মাটির স্তুপও তৈরি করেছে। ১০ আগস্ট সকালে বিদ্যালয়ে এসে মাঠের এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের জায়গা দখল ও মাঠ নষ্ট করার এই ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়ী করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। 
স্কুলের মাঠ কাটার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনার পর ওই দিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জুলোখা খানম উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) কে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন তিনি। 
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক তদন্তে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে খেলার মাঠ কেটে ড্রেন তৈরির সত্যতা পেয়েছেন তারা। মাঠের যত্রতত্র গর্ত করার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে স্কুল প্রাঙ্গণে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরির কথা জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং এই অপরাধের সাথে জড়িত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে শুক্রবার ও শনিবার রাতের আঁধারে মাঠের বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের সম্পৃক্ততায় পানি নিষ্কাশনের কথা বলে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কাটা হয়েছে। তবে মাটি কাটার কাজ করা স্থানীয় প্রভাষ মজুমদার ও লাভলী মজুমদারের দাবি, বৃষ্টির পানিতে তার বাড়িঘর ও গাছপালা তলিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্রনাথ মৃধার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার দেবর সুব্রত মজুমদারও এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে মাঠের ড্রেন তৈরি করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সুব্রত বাবু আমাকে ফোন করে তাদের বাড়ির পানি সরানোর জন্য মাঠ দিয়ে পাইপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু স্কুলে এসে দেখি মাঠের ভেতর থেকে চার-পাঁচ হাতের ড্রেন কেটে নেওয়া হচ্ছে। পরে ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম বলেন, সকালে স্কুলে এসে দেখি খেলার মাঠটি খনন করা হয়েছে। আমার কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমি অভিযোগ দিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা সরে জমিনে এসে তদন্ত করেছে। কারা কাজটি করেছে, তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা বলেন, স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে মাঠে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যারা এ কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই এবং শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে ড্রেন কাটার ঘটচনা যেন সুষ্ঠ তদন্ত করে বের করা হয়।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, বুরবুড়িয়া এলাকায় দুই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি কাটার অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। সেই কমিটির সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করছেন, অভিযোগের সত্যতা গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নষ্ট করা এবং খেরার পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
স্কুল বাউন্ডারীর মধ্যে একটি মোবাই টাওয়ার নিয়ে দুই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দন্ধ চলে আসছিল। প্রভাবশালী দ্রুপটি ব্যক্তিস্বার্থে না কারো ইন্দোনে বিদ্যালয়ের মাঠে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাও ক্ষতিয়ে দেখছে এলাকাবাসী।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ