খুলনা | শনিবার | ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউরোপযাত্রার ভূমধ্যসাগর রুটে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৪ এ.এম | ১৫ অগাস্ট ২০২৬


চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ভ‚মধ্যসাগরে অন্তত ১ হাজার ৬৬৮ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫ জন। ইউরোপমুখী মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সমুদ্রপথে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে সেন্ট্রাল ভ‚মধ্যসাগরীয় রুট। চলতি বছর এ পথে অন্তত ৮৭২ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে লাম্পেদুসা হয়ে ইতালিতে পৌঁছানোর এই পথ দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান রুট।
এ পথে যাত্রাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক। এনজিও এসওএস মেদিতেরানের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ভ‚মধ্যসাগরীয় রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের ২৬ শতাংশই বাংলাদেশি। এরপর রয়েছেন ইরিত্রিয়ার ১৬ শতাংশ, সুদানের ১৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ শতাংশ এবং মিশরের ৯ শতাংশ নাগরিক।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে লিবিয়া ও টিউনিশিয়া থেকে যাত্রা করে ২৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছেন। আগের বছরের তুলনায় আগমন কমলেও নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপক‚লে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় পাচারকারীরা এখন আরও দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের তব্র“ক থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দিকে যাত্রা বেড়েছে। এই পথ প্রচলিত রুটের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ দীর্ঘ হতে পারে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ নৌকা পরিস্থিতিকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলছে।
জানুয়ারিতেই প্রায় ৪৬০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করেছে আইওএম। তবে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার আশঙ্কা, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি।
অন্যদিকে, ভ‚মধ্যসাগরে বেসরকারি উদ্ধারকারী জাহাজগুলোর কার্যক্রমে বিধিনিষেধ এবং লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের ভ‚মিকা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা। তাদের মতে, নিরাপদ ও কার্যকর উদ্ধার ব্যবস্থা সীমিু হওয়ার পাশাপাশি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ রুট বেছে নেওয়ায় ভ‚মধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের জন্য আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
তথ্যসূত্র : ইনফোমাইগ্রেন্টস

প্রিন্ট

আরও সংবাদ