খুলনা | শনিবার | ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সর্বনাশা মাদকে ডুবছে পাইকগাছার তারুণ্য

ইয়াবার আগুনে পুড়ছে টাকার কৌন পোড়া নোট চললেও হচ্ছে ঝামেলা

শাহাজামান বাদশা, পাইকগাছা |
০২:১৫ এ.এম | ১৫ অগাস্ট ২০২৬


১০, ২০, ৫০ কিংবা ১০০ টাকার নোট, যে অর্থ দিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, সেই কষ্টার্জিত মুদ্রার কোনা পুড়ছে মাদকের ভয়ঙ্কর আগুনে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ইয়াবা সেবনের সময় টাকার নোট পুড়িয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে যত্রতত্র মিলছে পোড়া ও বিকৃত নোট। যা ক্রেতা-বিক্রেতার দৈনন্দিন লেনদেনে তৈরি করেছে এক নতুন অর্থনৈতিক সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকসেবীরা ইয়াবা সেবনের সময় নানা উপায়ে টাকার নোট ব্যবহার করার ফলে সেগুলোর কোনা বা অংশবিশেষ পুড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খুচরা দোকানে এই পোড়া নোটগুলো প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। যা নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঝামেলা লেগেই থাকছে।
মুদি দোকান, কাঁচাবাজার কিংবা ভ্যান-রিকশাচালকদের সঙ্গে লেনদেনের সময় যখন এই পোড়া নোটগুলো আসছে, তখন বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাংক বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ক্ষতিগ্রস্ত নোট নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। আর খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এ নোট নিয়ে প্রায়ই বাকবিতন্ডা ও চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। টাকার অঙ্ক ছোট হলেও এই অব্যবস্থাপনা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাদকাসক্তির এই আগ্রাসনে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে তারুণ্যের সোনালী ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে অজগ্র পরিবার। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও যুব সমাজ জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া, কর্মবিমুখতা এবং পারিবারিক অশান্তি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নেশার অন্ধত্বে আসক্তরা আজ কেবল নিজেদের জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করছে না, বরং জাতীয় সম্পদ ও মুদ্রার মানকেও অবমূল্যায়ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মাদকসেবীদের আইনের আওতায় এনে বা খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও কঠোর কৌশল। মাদক পাইকগাছায় কীভাবে প্রবেশ করছে, এর মূল পাইকারি সরবরাহকারী এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক বা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু প্রশাসন একা নয় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার বা শাস্তির পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সঠিক কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও কর্মমুখী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যেন তারা অন্ধকার জগৎ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
পাইকগাছায় টাকার নোট পোড়ানোর এই ঘটনা কেবল কিছু নগদ অর্থের অপচয় নয় এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয় ও মাদক বিস্তারের একটি বড় সতর্কবার্তা। এই ভয়ঙ্কর চিত্র থেকে সমাজ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনই প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত সচেতনতা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ