খুলনা | শনিবার | ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

চালকের আসনে বসে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:৪৩ পি.এম | ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ট্রাভিস হেড যখন বোল্ড হয়ে ফিরলেন তখন ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে ছিলেন ব্রেন্ডন জুলিয়ান, কেরি ও’কিফ। কী হলে কী হতে পারে সেটা নিয়েই আলাপ করছিলেন তারা। তাদের দুজনের ভাবনাটা এমন ছিল মার্নাস ল্যাবুশেন ও স্টিভ স্মিথকে ফেরাতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যাবে। ল্যাবুশেনকে ফেরানো গেলেও সফরকারীদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন স্মিথ। ডারউইন টেস্টের বাংলাদেশের জয়ের পথটা সুগম করতে স্মিথের উইকেটটা প্রয়োজন ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।

চেষ্টা আর অপেক্ষার পর অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়েছেন স্মিথ। ডানহাতি ব্যাটারকে আউট করার পর মিরাজকে ঘিরে ধরে উল্লাসে মেতে উঠলেন সবাই। উদযাপনটা বাড়তি না করে সেটারও লাগাম টেনে ধরলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে কাজের কাজটা যে হয়ে গেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্মিথ ফেরার পর দিনের বাকিটা সময় পাড়ি দিয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অজিরা। এখনো স্বাগতিকদের চেয়ে ৬৭ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। চালকের আসনে বসে টেস্ট জয়ের স্বপ্নও দেখছে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের চেয়ে ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভালো করতে পারেননি অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন জেইক ওয়েদার‌্যাল্ড। হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে স্কয়ার অব দ্য উইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তবে বটম এজে বোল্ড হয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। ট্রাভিস হেডও খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না। প্রথম রানের দেখা পেয়েছেন ১৫ নম্বর বলে।

মার্নাস ল্যাবুশেন ও হেড মিলে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও সেটা হতে দেননি হাসান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও হেডের উইকেট তুলে নেন তিনি। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের শরীরের কাছাকাছি লেংথ ডেলিভারিতে কাট করতে চেয়েছিলেন হেড। তবে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। একটু পর রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান স্টিভ স্মিথ। ইবাদত হোসেনের বলে বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে আউট দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।

স্মিথ রিভিউ নিলে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট বল নয় বরং মাটিতে স্পর্শ করেছে। চা বিরতি থেকে ফেরার একটু পরই মার্নাস ল্যাবুশেনের উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের মিডল ও লেগ স্টাম্পের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ল্যাবুশেন। ৫৯ বলে ৩১ রান করে আউট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। পরবর্তীতে ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টানতে থাকেন স্মিথ। একেবারে শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন তিনি।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্মিথের উইকেট নেওয়ার বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। সেই কাজটা করে দেন মিরাজ। ডানহাতি স্পিনারের বলে লিডিং এজ হয়েছেন স্মিথ। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিরাজ দারুণ ক্যাচ নেওয়ায় ফিরতে হয় তাকে। ৮৮ বলে ৪৪ রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট। দিনের বাকিটা সময় কাটিয়েছেন ক্যারি ও গ্রিন। উইকেটকিপার ক্যারি ১৯ ও গ্রিন অপরাজিত ৪৩ রানে। বাংলাদেশের হয়ে হাসান দুইটি, মিরাজ ও তাইজুল নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে সকালের শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজেলউডের গুড লেংথ ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হয়েছেন ৯২ বলে ১৪ রান করা এই ব্যাটার। হাসানের বিদায়ে মিরাজের সঙ্গে ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি ভাঙে। ব্যাটিংয়ে তাইজুলের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। হ্যাজেলউডকে ছক্কা মারার পরই অবশ্য ফিরতে হয় তাকে। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল।

পরবর্তীতে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের লিড বাড়াতে থাকেন মিরাজ। পাশাপাশি ১১৭ বলে হাফ সেঞ্চুরিও করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২ উইকেট হারালেও ৬৬ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে লাঞ্চ থেকে ফিরেই মিরাজের উইকেট হারায় সফরকারীরা। হ্যাজেলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন তিনি। মিরাজকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজেলউড।

পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে তিনশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। শেষ উইকেটে তাসকিন ও ইবাদত মিলে অবশ্য খুব বেশিক্ষণ টানতে পারেননি। ইবাদত ফিরলে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ২২৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই ৬ উইকেট নিয়েছেন হ্যাজেলউড। এ ছাড়া মিচেল স্টার্ক দুইটি, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ