খুলনা | রবিবার | ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

উন্নত চিকিৎসার কথা বলে

কয়রা থেকে গৃহবধূকে তালায় এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:০৫ এ.এম | ১৬ অগাস্ট ২০২৬


উন্নত চিকিৎসার কথা বলে খুলনার কয়রা থেকে ডেকে সাতক্ষীরার তালায় এনে এক গৃহবধূকে (৪০) রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তালা ব্রিজ মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনার ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর অভিযোগ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলায় পুলিশ তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের ওই গৃহবধূ অসুস্থ ছিলেন। তাকে ভালো চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে ১৩ আগস্ট বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার কথা বলে তালায় নিয়ে আসেন রাজু নামের এক যুবক। তিনি সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরত বলে জানা গেছে। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা সদরে আর চিকিৎসক পাওয়া যাবে না, এমন কথা বলে রাজু ওই গৃহবধূকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই এক নারী ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নারীর সহযোগিতায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে গৃহবধূকে অচেতন করা হয়। পরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পারেন। রাজু ও আরেক যুবক রাতভর পর্যায়ক্রমে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ওই নারীকে জানালে তিনি তাকে গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে গোপনে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে দাবি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। শুক্রবার সকালে কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে গৃহবধূ তালা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেন। পরে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। 
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সকালে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ওই নারী থানায় এসে অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী গৃহবধূকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ