খুলনা | রবিবার | ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

থানায় থানায় খাবার বিতরণকালে এড. মনা

গুপ্তদের দেশবিরোধী চক্রান্ত রুখে দিতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:০৮ এ.এম | ১৬ অগাস্ট ২০২৬


গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রূপকার, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর থানায় দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর থানা বিএনপি’র উদ্যোগে পৃথক পৃথক স্থানে এই খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা চক্রান্তকারী ও অপশক্তির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলালেও ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা থেমে নেই। চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটালেও গুপ্ত চক্রান্তকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা ভিন্ন পরিচয়ে বা নেপথ্যে থেকে দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। দেশের শান্তি, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে যারা গোপনে ষড়যন্ত্র করছে, ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সেই দেশবিরোধী নীল নকশা যেকোনো মূল্যে নস্যাৎ করা হবে। 
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পুরো রাজনৈতিক জীবন ছিল এ দেশের মাটি ও মানুষের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি আজীবন দেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন। চরম নির্যাতন ও কারাবাস সহ্য করার পরও তিনি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। আজ আমাদের নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্যের নতুন দিগন্তে পা বাড়িয়েছে, ঠিক তখনই পরাজিত ও গুপ্ত শত্র“রা পেছন থেকে আঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু খুলনার সচেতন জনগণ ও তৃণমূল বিএনপি অতীতের মতো রাজপথে থেকে এই অপশক্তির সব চক্রান্ত রুখে দিতে প্রস্তুত। সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর থানার পৃথক খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি এবং চক্রান্তকারীদের হাত থেকে দেশকে হেফাজত করার কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত শত শত দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে তৈরি খাবার তুলে দেন শফিকুল আলম মনা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা : বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগরীর খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানায় দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে থানা বিএনপি। শনিবার খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপি’র পৃথক পৃথক আয়োজিত দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, আজ এমন এক আবেগঘন মুহূর্ত, যখন আমাদের প্রিয় অভিভাবক ও আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সশরীরে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর ত্যাগ, তাঁর নীতি এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন সংগ্রামের অবিনশ^র ইতিহাস আজ এ দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
শফিকুল আলম তুহিন বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের চরম জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় কারাবাস ও বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরও দেশনেত্রী শত্র“র কাছে কখনো মাথা নত করেননি। কোনো প্রলোভন বা দমন-পীড়ন তাঁকে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যে নতুন স্বাধীনতার আলো দেখেছে, তার মূল অনুপ্রেরণা ও চালিকাশক্তি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজ দেশনেত্রীর যোগ্য উত্তরসূরি, আমাদের প্রিয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্যের যে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা মূলত বেগম জিয়ার রেখে যাওয়া গণতান্ত্রিক আদর্শেরই বাস্তব প্রতিফলন।
খুলনার রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি নেতা তুহিন বলেন, খুলনার মাটি সব সময় জাতীয়তাবাদী শক্তির বিশ^স্ত ঘাঁটি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। রাজপথের আন্দোলনে এ মাটির নেতাকর্মীরা যেভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, ঠিক তেমনি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজেও খুলনাবাসী অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করবে। খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা ও খাবার বিতরণ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ