খুলনা | রবিবার | ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | ১ ভাদ্র ১৪৩৩

নোয়াখালীতে ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

খবর প্রতিবেদন |
০৩:১১ পি.এম | ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকায় ২০১৬ সালে সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে তিনজনকে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও সাজা ভোগ করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরোনো কলেজসংলগ্ন পুকুরে স্থানীয় কিশোর রাজীব (২৩) একটি কুকুরকে গোসল করাতে যান। এ নিয়ে অনন্তপুর গ্রামের সৌরভের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় সালিশি বৈঠকের কথা ছিল।

সন্ধ্যার দিকে রাজীব তার দুই বন্ধু ওয়াসিম (২২) ও ইয়াছিনকে (২৩) নিয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরোনো ক্যাম্পাস এলাকায় গেলে তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াসিম ও ইয়াছিনও মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মাইজদী বাজার এলাকার কুদ্দুস উল্যাহর ছেলে ওমর নাছির সাজু ও ওমর শরিফ সুলতান এবং একই এলাকার ফারুকের ছেলে সৌরভ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন একই এলাকার মৃত মফিজ উল্যাহর ছেলে কুদ্দুস উল্যাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি এবং মোহাম্মদ উল্যাহর ছেলে হারুনুর রশিদ বাবুল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’ তিনি জানান, ছয় আসামির মধ্যে একজন কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচজন পলাতক।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে খুব খুশি।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ