খুলনা | সোমবার | ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | ১ ভাদ্র ১৪৩৩

টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন

|
০১:০০ এ.এম | ১৭ অগাস্ট ২০২৬


মাস যায়, বছর যায় আমাদের কৃষিতে সুদিন আসে না। কৃষকের দুর্দিনও ঘোচে না। অথচ কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোসহ নানা লক্ষে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাস্তবায়িত’ হয়, কিন্তু প্রকল্পের সুফল টেকসই হয় না। কোথাও দেখা গেছে, প্রকল্প চলাকালে কিছু সুফল মিললেও মেয়াদ শেষ হতে না হতেই আগের অবস্থাই ফিরে এসেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিগত দেড় দশকে দেশের কৃষি খাতে সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। কাগজে-কলমে বেশির ভাগ প্রকল্পকে ‘সফলভাবে সমাপ্ত’ দেখানো হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। অর্থাৎ যে লক্ষে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা অর্জিত হয়নি। সংশ্লিষ্টজনরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং ‘প্রকল্প-উত্তর পরিচালনাব্যবস্থা’ না থাকায় হাজার কোটি টাকার এসব বিনিয়োগের টেকসই ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন না করেই অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলায় সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্প চলাকালে গঠিত কৃষকদল, নির্মিত সেচনালা ও সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সঠিক তদারকির অভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কৃষক শাহাজাহানের মুখেও শোনা গেছে একই তথ্য। তিনি বলেন, প্রকল্পের কর্মকর্তারা এসে প্রশিক্ষণ দিয়ে যান, কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আর কেউ খোঁজ নেন না। অন্যদিকে এক উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তার মতে, প্রকল্প চলাকালে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ থাকে। এ কারণে গভীর প্রভাব বা টেকসই সুবিধার চেয়ে সংখ্যাগত অর্জন দেখানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়।
খবরে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক সেবা কেন্দ্র স্থাপন ও প্রযুক্তি স¤প্রসারণ প্রকল্পটি গত বছর শেষ হলেও এর বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নেই। সেবাকেন্দ্রের ভবনগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ভবনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে ভবনগুলোর দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বেশির ভাগ প্রকল্পের ফলাফলই এমন।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান যথার্থই বলেছেন- কোনো প্রকল্পের দীর্ঘস্থায়ী সুফল নিশ্চিত করা গেলে তবেই প্রকল্প গ্রহণের সার্থকতা থাকে। এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান।
আমরা মনে করি, চলমান প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। দেশের কৃষি খাতের প্রকৃত রূপান্তরের জন্য শুধু অর্থ ব্যয় বা সংখ্যাভিত্তিক অর্জন দেখলে হবে না বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ