খুলনা | সোমবার | ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | ২ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৩১ পি.এম | ১৭ অগাস্ট ২০২৬


জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগির ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তাঁরা।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তাঁরা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যাঁরা সহযোগিতা করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগির কমিশন গঠন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়—এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তাঁরা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না
অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী; পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ