খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

খুলনা মহানগরীর এক তৃতীয়াংশ বাড়ির মালিকই হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেননি

শামিম আশরাফ শেলী |
০১:৩৭ এ.এম | ১৮ অগাস্ট ২০২৬


মাসব্যাপী প্রচারণা ও বকেয়া করের উপর ১৫ শতাংশ সারচার্য মওকুপের ঘোষণার পরও মোট করের প্রায় অর্ধেকই আদায় হয়নি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স। এক তৃতীয়াংশ হোল্ডিং মালিকই তাদের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করেননি, ফলে মোট করের প্রায় অর্ধেকই বকেয়া! 
সূত্রমতে, খুলনা মহানগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার, যার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান সাত শতাধিক। এই প্রতিষ্ঠানগুলির নির্ধারিত মোট ট্যাক্সের পরিমাণ প্রায় ১০৪ কোটি ৩৯ লাখ ১৯ হাজার ৭০৫ টাকা, যার মধ্যে নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রায় ২৬ হাজার সরকারি ও বেসরকারি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেনি, যার পরিমাণ ৪৭ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৬ টাকা। অন্যদিকে মোট বকেয়ার মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ির ট্যাক্স পাওনা সাড়ে ২৭ কোটি টাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট পাওনা প্রায় ২০ কোটি টাকা।
সূত্রমতে, নগরীর বহু বাড়ির মালিক আছেন যারা সাত আট বছরও ট্যাক্স পরিশোধ করেন না এবং কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থাও নেয় না! সম্ভবত বছরের পর বছর ট্যাক্স না দিয়েও পার পাওয়া যায় বলেই বাড়ির মালিক এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিরা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে অনিহা প্রকাশ করছে। 
একদিকে যেমন বাড়ির মালিকেরা সময় মত কর পরিশোধ করছেন না, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিগত মেয়রের আমলে কর শাখার কিছু অসাধু কর্মীর যোগসাজসে তারা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ব্যাপক কর জালিয়াতীর আশ্রয় নিয়েছেন। যেখানে লক্ষাধিক টাকা কর ধার্য হওয়া উচিত সেখানে নাম মাত্র কয়েক হাজার টাকাও কর ধার্য করা হয়েছে। এক পর্যায়ে এসব জানাজানি হলে কর বিভাগের কয়েকজন কর্মীকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হলেও ট্যাক্স জালিয়াতীর সাথে জড়িত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 
তবে সময় মত ট্যাক্স পরিশোধ না করলেও বাড়ির মালিকেরা বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছেন ইচ্ছামত। বিগত দশ বছরে খুলনায় বাড়ি ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ এমন অভিযোগ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়াদের। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ট্যাক্স পরিশোধ না করলেও বাড়ি মালিকরা বাড়ি ভাড়া ঠিকই আদায় করেন নির্দিষ্ট সময়েই।
হাজার হাজার বাড়ির মালিক ও সরকারি কর্মচারিদের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা কি কর আদায় ব্যবস্থার ত্র“টি কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ প্রতিবেদককে বলেন, “এটা কর আদায় ব্যবস্থার ত্র“টি কি-না তার চেয়ে বড় কথা হ’ল আমাদের বিদ্যমান আইনের ভিতর থেকেই কাজ করতে হয়, যার বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। তবে যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ করেনি তাদের সকলের মাল ক্রোক করা হবে। কেসিসি খুব দ্রুতই মাল ক্রোক অভিযান শুরু করবে।”
বিগত মেয়রের আমলে কর শাখার কিছু অসাধু কর্মীর যোগসাজসে বিপুল সংখ্যক বাড়ির মালিক মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ব্যাপক কর জালিয়াতীর আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি এবং অনেক বাড়ির মালিককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এবং এ ধারা চালমান আছে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ