খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

দিলীপ পাল |
০১:৪৮ এ.এম | ১৮ অগাস্ট ২০২৬


শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ মঙ্গলবার। শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে নগরীর স্যার ইকবাল রোডস্থ বাইতিপাড়া মনসা বাড়িতে মনসা উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে সকাল ১০টায় মন্দিরে মঙ্গল ঘট স্থান, ১১টায় পূজা আরম্ভ ও অঞ্জলি প্রদান। দুপুরে ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ। মনসা পূজা উপলক্ষে বাইতিপাড়া মনসা মন্দিরে মনসা মঙ্গল (রয়ানি গান) অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়ার নগরীর শ্রীশ্রী শীতলা ঠাকুরানী মন্দির, আর্য্যধর্মসভা মন্দির, বাগমারা মন্দিরসহ নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহানগরী ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে প্রায় বাড়িতে এ অনুষ্ঠিত হবে। মা মনসা সর্প দেবতা এজন্য প্রসাদ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুধ, কলা, বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি, আম, পেয়ারা, আনারস, কমলা লেবু, আপেলসহ বিভিন্ন ফল সামগ্রী।  
পুরাকালে শিব পতœী মনসাকে স্বর্গের দেবতারা দেবী হিসেবে মানতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে দেবতারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, চম্পকনগরের চাঁন সওদাগর যদি মা মনসাকে পূজা করেন তবে সকল দেবতা তাঁকে স্বর্গের দেবী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। মা মনসা চম্পকনগরে চাঁদ সওদাগরকে তার পূজা করতে বলেন। চাঁদ সওদাগর ছিলেন শিবের ভক্ত। তিনি জানিয়ে দেন, যে হাতে আমি দেবাদিদেব শিবের পূজা করি সেই হাতে তোমার পূজা করতে পারবো না। মনসা রুষ্ট হন, তিনি চাঁদ সওদাগরের ছয় পুত্রের সর্প দর্শনে মৃত্যু হয় এবং সপ্ত তরী সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়। কিন্তু চাঁদ সওদাগর মা মনসার পূজা করতে রাজি হলেন না। অবশেষে চাঁদ সওদাগরের দক্ষিণধর (লখাই) নামে এক পুত্রের জন্ম হয়।  প্রাপ্য বয়সে উজান নগরের বেহুলার সঙ্গে তার বিবাহ দেন। কিন্তু বিবাহের পর বাসর ঘরে সর্পঘাতে লখাই মৃত্যু হয়। বেহুলা শাঁখা সিঁদুর রক্ষা করতে স্বামীর ভেলায় উঠে স্বামীর সঙ্গে স্বর্গে যাত্রা করেন। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে অযুত যোজন পাড়ি দিয়ে তিনি স্বর্গে প্রবেশ করেন। দেবাদিদেব মহাদেব তার কন্যা মা মনসাকে লখাইয়ের জীবন ফিরিয়ে দিতে বলেন। মা মনসা তখন চাঁদ সওদাগরের সাত পুত্রের শরীর ফিরিয়ে দেন তবে জীবন দান করেন না। মা মনসা বলেন, এদের জীবন ফিরিয়ে দিলে চাঁদ সওদাগর আমার পূজা করবে না। তাই চাঁদ সওদাগর আমাকে পূজা করলে আমি ওদের জীবন ফিরিয়ে দেব। তখন বেহুলা প্রতিশ্র“তি দেন তিনি তাঁর শ্বশুরকে বুঝিয়ে মা মনসার পূজা করাবেন। তখন বেহুলা চাঁদ সওদাগরের সাত পুত্রের শরীর নিয়ে চম্পকনগরে ফিরে আসেন এবং শ্বশুরকে মা মনসার পূজা করতে বাধ্য করেন। চাঁদ সওদাগরও বাম হস্ত দ্বারা দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। মা মনসাও দেবীত্ব লাভ করেন। সেই থেকে মত্তবাসী মা মনসার পূজা করে আসছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বার মাসে তের পূজার একটি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ