খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

অভিযোগ করলেও নির্বিকার কেডিএ

নগরীতে বিল্ডিং কোড না মেনে ব্যাংক কর্মকর্তার ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫০ এ.এম | ১৮ অগাস্ট ২০২৬


নগরীতে বিল্ডিং নির্মাণের কোড না মেনেই ৪নং কাশেম সড়কে বাড়ি নির্মাণ করছেন ব্যাংকার দম্পত্তি। ইতোমধ্যেই চারতলা ভবন উঠিয়েছেন। ওই ভবন থেকে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রতিবেশী দরিদ্র্য মোঃ শাহীন। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ’র নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। কেডিএ’র নিলিপ্ততায় বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই নির্মাণাধীন ভবনের পাশে একটি জরাজীর্ণ কুটিরে নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতের জীবন যাপন করছেন তিনি।
৪নং কাশেম সড়কের বাসিন্দা মোঃ হাশেম আলী হাওলাদারের বড় ছেলে মোঃ শাহীন প্রতিকার চেয়ে কেডিএ’তে একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। তিনি বলেন, গত ৩০ বছর যাবত তারা এখানে বসবাস করছেন। তার দুই চাচা ২ দশমিক ৯০ শতক জমি সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন দম্পত্তির নিকট বিক্রি করেন। বিগত ১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই দম্পত্তি সেখানে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে কেডিএ’র নকশা অনুযায়ী সামনে ৩ দশমিক ১৬ মিটার অর্থাৎ ১০ ফুট-৪ ইঞ্চি ছাড়ার কথা। কিন্তু তিনি এ নির্দেশ পালন না করেই অথবা অনুমোদিত নকশার শর্ত ভঙ্গ করে নীচে ৪ ফুট শূন্য ইঞ্চি ছেড়ে ঝুল বারান্দা হতে এক ইঞ্চি ছেড়ে নির্মাণ কাজ করছেন। এছাড়া বাড়ির উত্তর-দক্ষিণ পাশে এক মিটার অর্থাৎ ৩ ফুট-৩ ইঞ্চি ছাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তিনি এক ফুট জায়গা ছেড়েছে। বাড়ির পেছনের দিকে ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি জায়গা ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি ১ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে ২ ফুট ছেড়ে নির্মাণ কাজ করছেন। যা ১৯৫২ সালের সংশোধিত ইমারত আইন (১৯৮৭ সনের ১২ নং আইন) এর ৯ ধারা মোতাবেক কারণ দশানোর নেটিশ প্রদান করা হয়। গত ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কেডিএ’র পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নেটিশ ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। জবাবে ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন প্রতিবারেই নানা ছল-ছাতুরের আশ্রয় নিয়ে কালক্ষেপন করেন এবং চারতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করেন।
জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২১ জুলাই কেডিএর’ অথরাইজড অফিসার জিএম মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং-১৪৭, ২০১৮, ২০২৬-৩৬৮৮) স্থাপনার অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলার নোটিশ দেন। কিন্তু ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।
জানতে চাইলে কেডিএ’র অথরাইজড অফিসার জিএম মাসুদুর রহমান বলেন, কেডিএ’র নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। 
এদিকে, বিভিন্ন সময়ে কেএডিএ’র দেওয়া নোটিশের লিখিত জাবাবে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি লিখিতভাবে উল্লেখ করেন, তারা স্বামী স্ত্রী চাকরির সুবাদে বাইরে অবস্থান করায় ভবনটি নির্মানে একজন ঠিকাদার নিয়োগ করেন। কিন্তু ওই ঠিকাদার ভুল করে নকশা অনুযায়ী কাজ না করেই নিজের মতো করেছে। এ কারণে দুঃখ প্রকাশ করে ভবন সংস্কারের জন্য ৬ মাসের সময় চান। এভাবে ২০২৩-২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নোটিশের জবাবে ৬ মাসের সময় চান এবং সুকৌশলে ভবন নির্মন করতে থাকেন।
এ বিষয়ে জানতে ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেডিএ এবং প্রতিবেশীর এ বিষয়টি নিয়ে অনেক দূর গড়িয়েছে। ফোনে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ