খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

চাম্পাফুল আপ্রচ মাধ্যমিক স্কুলে বিধি বহির্ভুতভাবে অনুমোদিত এডহক কমিটি বাতিলের আবেদন

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি |
১২:০৫ এ.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬


আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত চাম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে বিধি বহির্ভুতভাবে এডহক কমিটি গঠন ও অনুমোদনের অভিযোগ এনে কমিটি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। অভিভাবক আজগার হোসেন গাইন ও মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। 
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, মাউশি বোর্ড যশোর এর প্রবিধানমালা-২০২৪ এর প্রবিধি নং ৬৪ (২) অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে অনুমতি গ্রহণ করে অনুমতি প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠনপূর্বক অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে হয়। কিন্তু অনুমতি গ্রহণ না করে এবং প্রাপ্ত না হয়ে বোর্ডের স্মারক নং ৩৭.১১.৪০৪১,০০০,৪৪১,০০,০০০১.২০.৭ তারিখ: ২৯/৩/২৬ এর দোহাই দিয়ে প্রতারণার আশ্রয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক অভিভাবক সদস্য, জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক প্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসক কর্তৃক সভাপতি মনোনয়ন চূড়ান্ত করে আবেদন অগ্রায়ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃক এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা বিধি বহির্ভুত ও সরকারি আদেশ অবমাননার শামিল। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ-এর ১৬.০৩.২০২৬ তাং ৩৭,০০,০০০০, ০৭২,১৮.০০৩. ২৪.৪১ নং স্মারকে জারিকৃত পরিপত্রে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী যশোর শিক্ষা বোর্ডের ২৯/০৩/২৬ খ্রি. এর বিজ্ঞপ্তি ৩৭.১১, ৪০৪১,০০০, ৪৪১,০০,০০০১.২০.৭ টি এডহক কমিটির সভাপতির eligibility/entitlement এবং মনোয়ন সংক্রান্ত। এখানে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।” এখানে এডহক কমিটি গঠনের সংশ্লিষ্ট স্মারকটি সংগত কারণে ‘অনুমতি পত্র’ হিসাবে গণ্য হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এবং প্রবিধানমালা ২০২৪ এর (৩১ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. গেজেট) এর আলোকে সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের নিকট থেকে প্রমাণক হিসেবে consent letter/ সম্মতি পত্র সংযুক্ত করত প্রস্তাব প্রেরিত হয়নি। সভাপতি পদে মনোনীত সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণক হিসেবে ‘সনদ’ প্রেরিত হয়নি। সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকায় সভাপতি হওয়ার যৌক্তিকতা (justification) ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে অনুমোদিত কমিটির সভাপতি, অভিভাবক সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি পরস্পর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান মোঃ আব্দুল হাকিম (তৎকর্তৃক আবেদন প্রেরিত) এর পছন্দসই ব্যক্তিবর্গ। বর্তমান এডহক কমিটি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করলেও প্রবিধানমালা-২০২৪ এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নূন্যতম ৯০ দিন পূর্বে সকল প্রকার খসড়া ভোটার তালিকা অনুমোদন ও প্রকাশ করার কথা থাকলেও ৯২তম দিনে (এপ্রিল ১৯+ ৃেম৩১+জুন৩০+জুলাই১৯ মোট ৯২দিন) উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে খসড়া ভোটার তালিকা অনুমোদন ও এককালীন দাতা ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সর্বোপরি বিগত ১২/০৬/২৬ তাং বিধি বহিঃভূতভাবে গঠিত এডহক কমিটি বাতিলের জন্য ৫০০০ টাকার সোনালী সেবায় (নং-২৬০৬১২০৯০০০৭৯৪৯৯) মাধ্যমে আবেদন করলেও অদ্যাবধি কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি বিধায় বিদ্যাপীঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দাতা সদস্য একাধিক নয় এক জন করেছে। এডহক কমিটির অভিযোগের প্রতিকার না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নিবাচনের তফশীল ঘোষণা না করার জন্য ১৭/৮/২৬ তাং আবেদন দেয়া হয়েছে।
বর্ণিত তথ্যাদি আমলে নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে গঠিত/অনুমোদিত এডহক কমিটি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে। এব্যাপারে বক্তব্য নিতে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ