খুলনা | বুধবার | ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে আশা সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

|
১২:২৯ এ.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬


বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি নানা সংকটে ধুঁকেছে। বিশেষ করে আস্থার সংকট দেখা দেওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ থমকে ছিল। বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আশার কথা হলো, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরছে। গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, জ্বালানিসংকট এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ব্যবসাপ্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি স¤প্রসারণে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
আমাদের বাস্তবতা হলো, ব্যবসা করতে চাইলেও পদে পদে প্রতিবন্ধকতা। এক লাইসেন্স করতেই মাসের পর মাস চলে যায়। আমদানি-রপ্তানিতে দীর্ঘসূত্রতা।
প্রয়োজনীয় বন্দরসেবা ও করব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন। এসব কারণে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা অব্যাহতভাবে কমেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা। বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে ২১টি বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।এর মধ্যে সরকারের ১০টি পদক্ষেপ নিয়ে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
খবরে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মাত্র ১৪ দিনেই নতুন লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এর জন্য আর মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। আমদানি-রপ্তানিতে সময় ও ব্যয় কমাতে কাস্টমস, বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবা ২৪ ঘণ্টা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওপেন এ্যাকাউন্ট ট্রেড, ডকুমেন্টারি কালেকশন এবং সাপ্লাই চেইন ফিন্যান্সিংয়ের সুযোগ স¤প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের কার্যকর মূলধনের ওপর চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জ্বালানি সমস্যা মোকাবেলায় সরকার মহেশখালীতে শিল্পের জন্য ডেডিকেটেড এফএসআরইউ (ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও গ্যাসীকরণ ইউনিট) স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পৃথক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের অন্যতম দাবি ছিল বন্ড লাইসেন্স নবায়নের ঝামেলা কমানো। সরকার বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে। পাশাপাশি অনলাইন নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের পাশাপাশি নতুন শিল্প হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এদিকে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যবসা সহজীকরণ, টাস্কফোর্স গঠন এবং ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক।
আমরা মনে করি, ছয় মাসের মধ্যে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ভিত্তি তৈরি করেছে। এতে বিপুল সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। তাই সামনের দিনে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হলে এই সময় প্রয়োজন সরকারের সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং ধারাবাহিকতা। এজন্য প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত অপরিহার্য। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ‘ডি-রেগুলেশন’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ