খুলনা | বুধবার | ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান

পর্যায়ক্রমে সব দখলদারকে উচ্ছেদ করে জেলার সব নদ-নদী দখলমুক্ত করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৫৯ এ.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬


জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র সচিব মোঃ মকসুমুল হাকিম চৌধুরী বলেছেন, সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ নদ এবং বেতনা, মরিচ্চাপ, আদি যমুনা, মাদার, খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদী ও নৌ-খালের তীরে অবৈধ দখলদার হিসাবে জেলার ৩০২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এবস দখলদারকে উচ্ছেদ করে জেলারসব নদ-নদী দখলমুক্ত করা হবে। কমিশনের মূলত কাজ হচ্ছে যে নদ-নদী গুলো এখনো প্রবাহমান আছে সেগুলিকে রক্ষা করা। একই সাথে নদ-নদীর অবেধ দখলমুক্ত করা, দূষণরোধ ও নব্যতা ঠিক রাখা। 
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক, এনজিও ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে নদীর অবৈধ দখল সম্পর্কে আরো সোচ্চার হতে হবে। প্রথমে একটি অথবা দুইটা নদী চিহ্নিত করে সে গুলোকে দখল মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে একটি প্রকল্প করে নদী কমিশনকে অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসককে বলেন।  নদী কমিশন যতদূর সম্ভব এ বিষয়ে তার লজিস্টিক সাপোর্ট দিবে। 
জেলা নদী কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পানি কমিশনের উপ-পরিচালক উপ-সচিব আব্দুল আল জাকি, জাতীয় পানি কমিশনের সহকারী পরিচালক গবেষণা ও পরিকল্পনা মোহাম্মদ আশরাফুল হক, পানি প্রকৌশলী সহকারী প্রধান আহমদ শামস কাদিও, পৌর সিভার নির্বাহী মোঃ আসাদুজামান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও বিভাগ ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী  যথক্রমে মোঃ আশরাফুল আলম ও মোঃ আব্দুর রহমান তাযকিয়া, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারী, উত্তরণের হাসেম আলী ফকির ও সুশিলনের মনিরুজ্জামান প্রমুখ। 
সভায় বলা হয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এস এ) শাখার তথ্য অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসন সরেজমিন তদন্ত শেষে কপোতাক্ষ নদ, বেতনা, মরিচ্চাপ, আদি যমুনা, মাদার, খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদী ও নৌ-খালের তীরে অবৈধ দখলদার হিসাবে ৩০২ জনকে চিহ্নিত করেছে। তাদের তালিকা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী ও খালের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের দখলে রয়েছে। সরকারি জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী বসতবাড়ি, ইটভাটা, মাছের ঘের এবং ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছেন। এর মধ্যে কপোতাক্ষ নদের তীরে ১১৫ জন এবং ইছামতী নদীর তীরে ১০ জনসহ মোট ৩০২ জন ব্যক্তি নদী ও নৌ-খালের তীর দখল করে আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভূমিহীন হিসাবেও তালিকাভুক্ত।
সভায় আরো বলা হয়, সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ নদ, বেতনা, ইছামতিসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে ৩০২ জন অবৈধ দখলকারীকে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সভা  শেষে অতিথিবৃন্দ সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের খাল, বেতনা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পাড়ে গড়ে উঠা অভেধ স্থাপনা সমূহ পরিদর্শন করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ