খুলনা | বুধবার | ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল বিএসইসি, পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৮ পি.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬


পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ ও নাজেহালের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুধবার (১৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পেয়েছেন। তাদের কেউ কেউ আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি গ্রহণ করেন।

বিএসইসি সূত্র জানায়, বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় রয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ, যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম, উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান, সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ।

অন্যদিকে বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম, মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল বিএসইসি।

গত বছরের ৫ মার্চের ঘটনায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়েছিল। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী এ ঘটনায় তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্য একজন কর্মকর্তা আগেই পৃথক একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কয়েকজন কমিশনারের উপস্থিতিতে সভা চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জোরপূর্বক সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিএসইসির মূল ফটকে তালা দেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটে। এতে সংস্থাটিতে ভীতিকর ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ