খুলনা | বুধবার | ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কলকাতায় আগুনে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের পরিচয় প্রকাশ

খবর প্রতিবেদন |
০২:১২ পি.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬


ভারতের কলকাতায় একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। নিহতরা কুষ্টিয়া ও ঢাকার পাঁচ বাংলাদেশি এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের এক তরুণ রয়েছেন।

মধ্যরাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ছয়জনের বিস্তারিত তথ্য:
১. শর্ণশিষ দত্ত
জন্ম: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
পিতা: দেবাশিস দত্ত
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।

২. আফসানা শিম্মিন
জন্ম: ৬ জানুয়ারি ১৯৯৯
পিতা: মো. আকরাম আলী
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।

৩. দেবাশিস দত্ত
জন্ম: ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭
পিতা: দিলীপ কুমার দত্ত
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।

৪. মো. আকরাম আলী
জন্ম: ১৬ জুন ১৯৬২
পিতা: ইয়াসিন আলী
ঠিকানা: থানাপাড়া, ৪, মনহুম বদরুদ্দোজা রোড, কুষ্টিয়া মডেল, কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস, কুষ্টিয়া।

৫. আহমেদ বাবু
জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পিতা: আদম আলী
ঠিকানা: বেগুনবাড়ি, সাভার, আমিনবাজার, ঢাকা–১৩৪৮।

৬. সন্দীপ পাসওয়ান
বয়স: ১৯ বছর
পিতা: প্রয়াত পাসওয়ান ভুবনেশ্বর
ঠিকানা: গ্রাম পিলমউ, পোস্ট খারিওডিহ, থানা হেরোডিহ, জেলা গিরিডি, ঝাড়খণ্ড–৮১৫৩১৪।

এখনও নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ৯ জনের শরীরে বড় ধরনের পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আগুনের সময় অনেকে ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ল্যাডার ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।

এদিকে এ ঘটনায় কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছে প্রশাসন। খবর পেয়েই দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী— পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, বেআইনি কার্যকলাপ ও সুরক্ষাবিধি অমান্য করার বিষয়ে সরকার বিন্দুমাত্র আপস করবে না।

গণমাধ্যমের সামনে তাপস রায় বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক বা বিপজ্জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই সব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট— আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে চলব।

তিনি আরো বলেন, শহরের আনাচে-কানাচে শতাধিক ও হাজার হাজার বাড়ি এবং গেস্ট হাউস চলছে। এগুলির মধ্যে প্রয়োজনীয় পারমিশন, লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম অমান্য করে বেআইনিভাবে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

কলকাতা পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে তিনি বলেন, পৌরসভা বা মেয়রের যদি কোনো ভুল বা গাফিলতি থাকে, তবে সেটাও চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। যার বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে অভিমত জানান তিনি।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত ত্রাণ, উদ্ধারকার্য ও তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দীর্ঘ তৎপরতায় প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ৯ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ