খুলনা | বুধবার | ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

গণমাধ্যম কখনোই এত স্বাধীনতা ভোগ করেনি : তথ্যমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৭ পি.এম | ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

‘স্বাধীন বাংলাদেশে এত স্বাধীনতা গণমাধ্যম এর আগে আর কখনোই ভোগ করেনি’- বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার সার্কিট হাউসে তথ্য ভবনে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বরঞ্চ আমাদেরকে এখন সতর্ক থাকতে হচ্ছে স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়াতে, ফেসবুকে এবং ভূঁইফোড় সমস্ত পত্রিকাতে- যাতে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কালচার না হয়। আমাদেরকে সে ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হচ্ছে, কারণ প্রতিদিন ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছে সাংবাদিকতার নামে কী অপকর্ম চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সাংবাদিকতা পেশা এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতিতে আছে, তাতে বেশিভাগ সাংবাদিকই অসন্তুষ্ট। তারা নিজেরাই এই পেশায় আছেন, কিন্তু তারা নিজেরাই এই পেশার সম্মান এবং মর্যাদাকে কাঠামোবদ্ধ করার জন্য যে কাজ- তা আমরা সবাই মিলে করতে পারিনি। সে কারণে তাদের মধ্যে একটা অসন্তোষ আছে। সরকার নিজেও কিন্তু এই কাজ করতে না পারার কারণে একটা অস্বস্তির মধ্যে আছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শুধু নয়, সারা পৃথিবীতেই একটি আধুনিক রাষ্ট্র এবং সমাজকে টিকে থাকতে চাইলে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতাকে শক্তিশালীভাবে দাঁড়াতে হবে। আর তা যদি দাঁড়াতে হয়, তাহলে এই জগতকে ঘিরে যে শিল্প প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা, শিল্প আইন ও শ্রম আইন আছে- সেটার আলোকেই সাংবাদিকতাকে একটা পেশায় পরিণত করতে হবে। এবং সেই পেশায় শিক্ষিত, দক্ষ ও জ্ঞানী মানুষদেরকে আসতে হবে। দেশের বড় বড় ঘটনার নেপথ্যে বড় বড় সাংবাদিকদের অনেক ভূমিকা ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। অতএব, এই পেশাকে যাতে কেউ কলুষিত করতে না পারে, এই পেশাকে কেউ যেন অন্য কোনোভাবে আখ্যায়িত করতে না পারে- সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনীতি এবং সাংবাদিকতা ক্ষমতা নিয়ে নাড়াচাড়া করে। রাজনীতি হলো জনগণের সেবা করার জন্য ক্ষমতা অর্জন করার একটা প্রক্রিয়া। আর সেই ক্ষমতা যাতে জনগণের পক্ষে পরিচালিত হয়, সে কারণে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা থাকে সাংবাদিকদের। ফলে রাজনীতিবিদদেরও ক্ষমতা আছে, আর সেই ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা আছে সাংবাদিকদের। রাজনীতিবিদরাও ক্ষমতা চান জনগণের কল্যাণের জন্য; সাংবাদিকরাও সেই কল্যাণের জন্য ক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে কি হচ্ছে না, সে কারণে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই ক্ষমতাকে রাজনীতির নামে যদি কেউ অপব্যবহার করে, এই ক্ষমতাকে রাজনীতির নামে যদি কেউ পারিবারিকীকরণ করে, কুক্ষিগত করে, অপরাধীদের পক্ষে কাজে লাগায়, রাষ্ট্রকে লুট করার কাজে লাগায়, ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা লুট করার কাজে লাগায়, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের লুট করার কাজে লাগায় এবং যারা এটার প্রতিবাদ করে তাদেরকে গুম ও খুন করার জন্য কাজে লাগায়- তখন সেই ক্ষমতাকে দেশের মালিক জনগণ বরদাস্ত করে না।

তিনি আরো বলেন, রাজনীতি ক্ষমতা অর্জন করার একটা প্রক্রিয়া। কিন্তু সে যদি সঠিকভাবে প্রবাহিত না হয়, তাহলে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হওয়ার কারণে তাদেরকে রাষ্ট্রের পিঠ থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। এমনকি এমনভাবে জনগণের কাঁধের উপর থেকে সেই ক্ষমতাবানদেরকে ছিটকে ফেলে দেয় যে তারা দেশের বাইরে গিয়ে পড়ে, দেশের মাটিতে পর্যন্ত জায়গা হয় না। অতএব, জনগণের মালিকানাই হচ্ছে সব। সেবা দেয়ার জন্য ক্ষমতা দরকার, কিন্তু ক্ষমতা যদি জনগণের সেবার কাজে না লাগে তাহলে তার পরিণাম কী হয়, আমরা সর্বশেষ ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার অপমান ও অসম্মানের মধ্য দিয়ে তা দেখেছি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারকে এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা আছে সাংবাদিকদের। কিন্তু সেই ক্ষমতা যদি কেউ কাজে না লাগিয়ে দুর্বৃত্ত, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার পক্ষে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে, তাহলে তার পরিণাম কী হয়? সেই সমস্ত দালাল সাংবাদিকরা এখন কিন্তু ফ্যাসিস্টের দালাল হিসেবে কারাগারে আছে। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যে হত্যা, গুম, খুন হয়েছে, রাষ্ট্র লুট হয়েছে, টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে- এই অপকর্মের সহযোগী সাংবাদিক হিসেবে তারা চিহ্নিত হয়েছে। আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছি, যাতে কেবলমাত্র অপরাধীরাই চিহ্নিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের সাংবাদিকতা জগতে একটা নতুন সুস্থ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই। শুধু প্রিন্ট মিডিয়া নয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি)- সমস্ত জায়গাতেই আমরা একটা নিউ ডিজিটাল আধুনিক মিডিয়া ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাচ্ছি। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে আমি সকলের সহযোগিতা পেয়েছি, আশা করি আপনাদেরও সহযোগিতা পাব। সরকারের আমলে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো বিধিনিষেধ আজ পর্যন্ত আরোপ করা হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ