খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

৩০ দিনের মধ্য চার্জশীট ও ৯ কর্মদিবসে ২৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ

নড়াইলে জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদন্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা

নড়াইল প্রতিনিধি |
০১:৪২ এ.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬


নড়াইলের চাঞ্চল্যকর ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও  হত্যা  মামলার আসামি রবিউল সিকদার ওরফে রবিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেছে আদালত। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এ রায় প্রদান করেন নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম। ঘটনা সংগঠিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্য আদালতের চার্জ ও ৯ কর্মদিবসে মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে গতকাল বুধবার রায় ঘোষণা করে আদালত।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ৫ বছরের শিশু কন্যা জান্নাতুল মাওয়াকে বাড়ি না পাওয়ায় তাকে খুঁজতে থাকে স্বজনেরা। খোঁজাখুঁজির এক পযায়ে প্রতিবেশি আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল সিকদার ওরফে রবির ঘরের বিছানার উপর ধর্ষণের আলামতসহ  অচেতন এবং বিছানার চাদর মোড়ানো অবস্থায় তাকে  পাওয়া যায়। এসময় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২১ জুলাই জান্নাতুল-এর বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদারকে আসামি করে নড়াইল সদর  থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিন আসামী রবিউল সিকদারকে এলাকার দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন স্থানীয় লোকজন। 
নির্মম এই ঘটনার পরে অভিযুক্ত রবি শিকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নড়াইলের দত্তপাড়ায় ঢাকা বেনাপোল সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, ঘেরায় কর্মসূচি, বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয় জান্নাতুলের নিজ এলাকাসহ নড়াইল শহরে। অপর দিকে গ্রেফতারের পর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয় আসামি রবিউল সিকদার রবি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু গত ৬ আগস্ট নাইলের আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। গত ৯ আগস্ট মামলার চার্জ গঠন করে আদালত। ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে এ রায় ঘোষণার করেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নড়াইল জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি এড. আজিবুর রহমান, অতিরিক্তি পিপি তারিকুজ্জামান লিটু ও এড. ইগ্রাফিল খবির রাজু। আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী কাজী আবুল কালাম।
মামলার রায় ঘোষণার সময় জান্নাতুল মাওয়ার পিতা-মাতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে খুশি হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তাদের। বাদী পক্ষের আইনজীবী ইসরাফিল খবির রাজু বলেন  দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মমভাবে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় যখন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তখন নড়াইল ১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম সবাইকে আশ্বস্ত করেন যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব এই মামলার রায় প্রদানের পদক্ষেপ নেয়া হবে। নড়াইলের পুলিশ সুপার ও খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি একই আশ্বাস সকলকে প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাত্র ২৯ দিনে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। 
নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, ২০ জুলাই এই ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ১৯ আগস্ট মামলার রায় প্রদান করা হলো। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামি রবিউল শিকদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। এই রায় ঘোষণায় নড়াইলের আইনজীবীসহ সকলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, পাশাপাশি যত দ্রুততম কম সময়ে সম্ভব মামলার রায় কার্যকরের দাবি সকলের। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ