খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কলকাতায় হোটেল আগুন: নিহতদের ৭ জন বাংলাদেশি, দুজন ভারতীয়

খবর প্রতিবেদন |
০২:১২ এ.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬


কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই ভারতীয় নাগরিকের একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাশওয়ান (১৯)। অপরজন শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগী নারায়ণ (৬৮)।

নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিক হলেন: কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৭), তাদের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (২ বছর ৮ মাস), আফসানা শারমিনের বাবা আকরাম আলী (৭৪), ঢাকার সাভারের বাসিন্দা বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের রেবতী সরকার এবং একই এলাকার এস এম আলিমুজ্জামান। অগ্নিকাণ্ডে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের আরও চারটি হোটেল থেকে প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। একই সঙ্গে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

হোটেল সূত্রের দাবি, ‘শিখা ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল না। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে এত মানুষ অবস্থান করছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার হোটেল, গেস্ট হাউস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোতে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেট থানার পুলিশ একাধিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এ সময় হোটেলগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথসহ অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে, মারক্যুইস স্ট্রিটের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত ‘স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংগঠনের সম্পাদক আলী হায়দার বলেন, গত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের কলকাতায় যাতায়াত রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এটি দুর্ঘটনা হলেও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলকাতার ভাবমূর্তি কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে বুধবার সন্ধ্যায় আগুন লাগা হোটেলের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

বুধবার দিবাগত রাতে নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল ও দমকল বিভাগ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ